নকশি ক‍্যাঁতার আগুন(সংকোলিতো)

শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিৎ


পোকাশোকের কথা

শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিতকে যারা চেনেন, তারা সকোলেই জানেন, তিনি কতো বড়ো লেকক এবং চিন্তাবিদ ছিলেন। য‍্যামোন ছিলো তাঁর বুদ্দি, ত‍্যামোন উচ্চবিচার। মানুষ পোতিভার কদোর জানে না, তাই তিনি ত্যামোন কোনো পুরোস্কার পান্নি, তাঁর অসামান্নো সিষ্টিগুলোর কোনো সংকলোনও হয়নি। তাঁর রচোনাগুলি অল্পো কিচু লোকের কাচেই পরিচিতো ছিলো। যোদিও সেই মহান আত্তাকে এই খুদ্র পরিসরে ধরা সম্ভব নয়, তোবুও তাঁর কিত্তিগুলিকে অ্যাকোত্ত করার চেষ্টা করা হোলো। এই পোবন্দোগুলিতে তাঁর মহাশৃগালীয় পজ্জোবেক্কন খমোতা, দুরোদিষ্টি, বিশ্লেষোনী খমোতার পরিচয় পাওয়া যাবে। য‍্যামোন বোহুমুকি ছিলো তাঁর পোতিভা, ত্যামোনই বিভিন্নো বিষয়েও লিকেচেন তিনি।

মুকবন্দো

এটি কি হোচ্চে ক্যানো হোচ্চে যারা আগে তেকেই কলোরব কোর্চে তাদের জানানো যাচ্চে যে এটি তাদের মুক দড়াম্ করে বন্দো কোরে দেবার জোগাড়। এটি ক্যানো লেকা হোলো, তা যদি কারো পোশ্নো হয় তো তার উত্তোর দিতে আমার বোয়ে গ্যাছে। তোবু কতাটা যকোন উটলোই, তকোন, যারা সব জেনেও না জানার ভান কোরে মটকা মেরে তাকেন, বা যারা না জেনেও সবজান্তা গামছাওয়ালা সেজে তাকেন, সকোলের জোন্যই বলা যাক; অ্যাকোন চাদ্দিকে চোক রাকলে দেকা যাবে, অনেক কিচুই হোচ্চে, কিন্তু চোরি চোরি চুপকে চুপকে। আমাদের কাচে ওসব হেঁকোড়বাজি চোলবে না। আমাদের সবকিচুই দুদ্দাড়িয়ে খুল্লামখুল্লা। আমাদের কতা হোলো যা খাচ্চি তাই হাগচির মোতো যা দেকচি তাই লিকচি। আমরা ল্যাম্পপোস্টের মোতো যেকানে সেকানে দাঁড়িয়ে থাকি, আর উপোর তেকে দেকার জোন্যোই অনেক কিচুই চোকে পড়ে। তাই বোম্মার মোতো, আমরাও জানি, গোপোন কম্মোটি। একানে রসনচৌকি বসানোর উদ্দেশ্যো হোলো ঢাক পিটানো। কার ঢাক,জেনে লাভ নেই, যদ্দিন আপ্নার না হয়, তদ্দিনই আপ্নার বালো। যদি ভাবেন পোর্লেই বুজে ফেলবেন, কার ঢাক কে পিটচে, তবে পোরেই দেকুন। চোক খোলা রাকুন, পোর্তে তাকুন, কারোন পোর্তে হয়, নাহোলে পিচিয়ে পোর্তে হয়, জানেন তো? অ্যাকবার ধপাস কোরে পিচিয়ে পোর্লে, পোর্তেই তাকবেন, তকোন রাস্তা আপ্নার আগে চোলে যাবে। সেজোন্য পোড়ুন,গ্যান জমান, পিচিয়ে পোর্বেন্না।


বাঙালি

বাঙালি কি, বোল্লে হয়তো পোন্ডিতেরা বোলবেন, বাঙালি এট্টি জাতি; ভুল না হোলেও, ঠিক ফুলমাক্স পাবেন্না। বাঙালি কি, মাপতে গেলে অনেকগুলি উত্তোর মেলে, এক সে বড়কর এক, কিচু বাদ দেওয়া যাবে না।

যারা পর্পর দুটো তৎসম শব্দো শুনলে জিগান, “বাংলা অনার্স?” তাদের বাঙালি বলে। একতাটা এরমও বলা যায়, যে জাতি নেমন্তন্ন বাড়িতে গর্বিত হাসি নিয়ে বলেন “আমার ছেলের না, bengali টা ঠিক আসে না” তাদের বাঙালি বলে।

বা, যে জাতির পাব্লিকের দশ বছোর হোতে না হোতে নস্টালজিয়া জন্মায়, (সবে ফিডিং বোতল ছেড়ে ঘুড়ি-লাটাই ধরা খোকার মুকে হয়ত শোনা গেল, কফিহাউস? — ওঃ! নস্টালজিয়া…) তাদের বাঙালি কয়।

অথবা, যে জাতি ঝকঝকে গাড়ি দেকে গোপোনে দিগ্ঘশ‍্বাস ফ্যালেন, আর মুকে গজ্জান–“grapes are sour” তাদের বাঙালি বলে। এট্টু ওন্যভাবে বোল্লে, যে জাতি ইন্ডিয়া কিংস আর ক্যাপুচিনোয় হাত না পেলে জোরে জোরে বিড়িতে টান দিয়ে বলেন, “হারুর দোকানের চা যারা খায়নি, তাদের জীবনটাই ব্যত্থো” অথোচো মাসপয়লায় পকেট ভর্তি থাকলে লুকিয়ে লুকিয়ে বারিস্তা, তাদের বাঙালি বলে।

এরকোমও বলা যায়, যে জাতির কাচে যুদ্দো-মহামারির চেয়েও বড়ো খবোর ১৯৭২এর ১৭ই জুন সুচিত্রা সেন কি রঙের শাড়ি পোড়েচিলেন্, আর জীবনের একমাত্র মোক্ষো ময়দানে লোটা ও মাচার গুষ্টি উদ্ধার করা, তাদেরকেই বাঙালি বলে।

আবার এটাও বলা যায়, যে জাতি, পুজো আসচে, পুজো এসে গ্যালো, পরের বছোরের পুজো আসচে, এইভাবে সারা বছোরের হিসেব রাকেন, তাকে বাঙালি বলে। উৎসবে বাঙালির উদ্দম জগোৎবিখ্যাতো। এটাও বলা যায়, ২৫শে বৈশাখ থেকে সরোস‍্যতী পুজো যে কোন পাব্বনে যাদের আমোদে বান ডাকে, তাদের বাঙালি বলে। বাঙালি সারা বছোরই শীতঘুমে থাকেন, উৎসবের সময় এলে হটাৎ চারটে হাত, ছটা পাকস্থলী নিয়ে তেড়েফুঁড়ে ওঠেন।

বোল্লে অনেক কিচুই বলা যায়, সমোস্ত গুণপনা-ছানাপোনা নিয়ে বাঙালি এক unique চিজ। যারা আর সমোস্ত কিচু এন্তার ছড়ালেও লুঙ্গিটা খুব কোষে বাঁদতে জানেন। তবে আচকাল বাঙালি গ্লোবাল হয়ে যাচ্চেন। পরিবত্তন এট্টা হোচ্চেই। আগে বাঙালি পত্রো লিকতে শুরু কোর্তেন সাদুভাষায়, শেষ কোর্তেন কথ্যভাষায়, একন বাঙালি পত্রো লেকেন না, লিকলেও ঝর্ঝরে ইংরিজিতে। একন বাংলার আনাচেকানাচে অনেক NRI তৈরির কারখানা হোয়েচে, ভালো কতায় বলে ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’। তাই একন বাঙালি ‘দেকচি’, ‘ইয়ে’ এন্তার বোল্লেও, ‘নিশ্চোই’টা বোদলে ‘অফখোস’ হয়ে গেচে। তবে, দেওয়ালে পিচিক্ কোরে থুতু ফেলার, বা হিসি করার ওভ্যেসটা যায়নি। আগে বাঙালির বাজারের চায়ের দোকানে চীন-পাকিস্তান মেরে মার্কিনিদের ধুইয়ে দিয়ে ফেরার পতে লিস্টির দুটো জিনিস বাদ পোড়তো, একন বাঙালি শপিং মলেই বেশি যান, লিস্টিতে জিনিস অ্যাড হোতে থাকে, বাদ পড়ে না বাঙালিরা চিরোকালই সমাজসচেতন কাকতাড়ুয়া। আগে সোর্স বোলতে ছিলো, চায়ের দোকানের পোল্টুদা আর খবরের কাগোচ, একন যোগ হোয়েচে ফেসবুক। ফেসবুককে বাঙালি আপোন কোরে নিয়েচেন। ফেসবুকে বাঙালি পোদ্য লিকচেন, তক্কো কোর্চেন, আবার রগড়ও কোর্চেন। বাঙালির কৌতূহল খুব নামকরা, যদি দ‍্যাকেন যে কেউ মিছিলের আওয়াজে মুক কুঁচকে কানে হাত চাপা দিলেন, অথোচো, মিছিল না যাওয়া পোর্যন্তো নোর্চেন না, বুজবেন- তিনি নিগ্ঘাৎ বাঙালি। বাঙালি বাড়িতে ওতিথি এলে এট্টা হুড়ুদ্দুম পোড়ে যায়, নিত্যকাজের সব জিনিস লুকিয়ে ফেলে, একদম সিরিয়ালবাড়ির মত টিপটপ। এজোন্যই হয়তো বাঙালির খাটের নিচে, গুপ্তোসমিতির মত, এট্টা গুপ্তোসংসার থাকে। এছাড়া বিখ্যাত বাঙালির পিয়েনপিসি, ওটি ছাড়া বাঙালির আড্ডা জমে না। আপিসে কে কেন সামান্য খুঁড়িয়ে হাটঁচে থেকে পাশের ফ্ল্যাটের ‘উনি’ কোথায়, কবে, কিভাবে, কাকে দেখা দিয়েচিলেন, তা নিয়ে তথ্যগর্ভ বিশ্লেষণে বাঙালির জুড়ি নেই।

বাঙালি আবার খুব সঙোস্কিতি সচেতন প্রাণী, এবং এ মামলায় যে তারা ‘শ্রেষ্ঠয়েস্ট’, সে ব্যাপারে তাদের কোন সন্দেহো নেই। সে জোন্য তারা পোকাশ্যেই ‘মাথামোটা বিহারী’, ‘অশিক্ষিত গুজ্জু’, আর ‘আনকালচার্ড মাওড়া’দের নিয়ে ঠাট্টা কোরে থাকেন। (অবোশ্য, বাঙালির সব ব্যাপারেই রগোড় করা ওভ্যেস, সে দুর্ভিক্ষ-মহামারী-দাঙ্গা-মোচ্ছব যাই হোক না কেন। এজন্য যেকোন হাঙ্গাম-ক্যাচালে তেড়ে খিল্লি কোরেই তারা হাত ধুয়ে ফ্যালেন।) বত্তোমানে, গ্লোবাল বাঙালি অবোশ্য সকোলকে একত্তে নন-বেঙ্গলি বলেন।গ্লোবাল বাঙালি বাঁটুল দি গ্রেট, নন্টে ফন্টে, ফেলুদাসাহিত্য এবং টিনটিন, পোভিতি বিদেশি সাহিত্য গভীর মনোযোগে চর্চা করেন। বর্ত্তমানে দেকা যায়, যে ফেলুদাচর্চা করে না, গ্লোবাল বাঙালিরা তাকে বাঙালি বলে মানতেই অস্বীকার করেন। বাঙ্গালীর ওতীত গৌরব পোসঙ্গে বাঙালির সম্মিলিত দিগ্ঘশ‍্বাসে এট্টা সাইক্লোন হবার জোগাড় হয়। বাঙালি নিজের ম্যাড়ম্যাড়ে বত্তোমানে গ্ল্যামারাস ওতিত জাবর কাটতে খুব ভালোবাসেন। সেজন্য গরম চায়ের দোকানের বেঞ্চি পোঙায় ঠেকলেই ‘সুভাষচন্দ্র’ থেকে ‘সত্তর দশক’ হুড়মুড়িয়ে এসে পড়ে। এ ব্যাপারেও অনেকে বউ বা বান্ধবীর কাচে নস্টালজিয়া পোকাশ কোরে থাকেন। অনেকেই আত্তীয়-সজোনের আড্ডায় বলেন, ‘তোষামোদি কোত্তে পার্লে অ্যাদ্দিনে প্রোমোসন্ আটকায় কে, তবে কি জানেন, সুভাষচন্দ্রের সজাৎ, তোষামোদিটা আমাদের ঠিক আসে না।’


ভার্চুয়াল

বত্তোমানে অ্যাক নয়া জগোতের আমদানি হোয়েচে। আমদানি এ জগোতেই হোয়েচে, কিন্তু রকোম দেকে তাকে এ জগোতের কিচু বোলে ঠাওরানো শক্তো। এ জগোতে কেউ সোত্যি সোত্যি না থাকলেও, অনেকেই মনে করেন তাঁরা আসোলে এ জগোতেই বেঁচে আচেন। এ জগোতে ফিজিক্স ইকোনোমিক্স ও কোন ট্রাফিক নিয়ম পাত্তা পায় না। এ জোন্নো একানে ককোন কি হবে আগেভাগে বলা মুস্কিল্ । তবে তাতে একানে কারো উৎসাহে ভাঁটা পড়েনি, এবং রগোড় থেকে খেউড় কিচ্চুটি বাদ যাচ্চে না, বরোং উপরি হোচ্চে। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্চে একে নাকি ‘ভার্চুয়াল’ বলে। ভার্চুয়াল জনোতার কান্ড-কারকানা দেকে বোম্বাচাক লেগে যাচ্চে। ম্যাংগো-পাব্লিক সকালব‍্যালা চায়ের কাপে বিবেকানোন্দোর বানি দিয়ে সবাইকে গুড মন্নিং কোরে দিচ্চে। সকালে উঠে কার কিরকোম লাগচে, ‘ফিলিং ল্যাদ’, না ‘ফিলিং পটি’ সবাই স্ট্যাটাসে দিচ্চে। সক্কোলে ব্যাস্তো, অ্যাক্সিডেন না অন্নোপাসন, না দেখেই লাইক্লাইক্লাইক। চোর-বুদ্দিজিবি-নেতা পাব্লিক যাকে সামনে পাচ্চে, খচাকসে সেলফি নিচ্চে। কেউ কেউ রেল্লাইনের সঙ্গে ছোবি তুলতে গিয়ে গুপুস্ কোরে ছোবি হয়ে যাচ্চে। অ্যাসিস্টেন কেরানি ভার্চুয়ালে উদ্দাম ‘রেবেলিয়ান’ হয়ে যাচ্চে। আবার, ছাত্তরা মা-কালির ম্যাসেজ বারোজোনকে ফরওয়াড কোরে সুখবোরের আসা কোচ্চে। কেউ প্রেমে ঘা খে, জীবনানন্দো টুকে সুনীল গাঙ্গুলির পোদ্য শেয়ার কোর্চে। পাব্লিক গম্বির মুকে সব দেখচে সুনচে আর লাইক দিচ্চে। সিবিআই-হেমামালিনী-বাহুবোলী সব নিয়েই পাইকিরি হারে ট্রল হচ্চে। কুইন বোলেচেন আমি সব জানি, আমাকে চমকাবেন না, সাধু বোলেচেন গোরু খাবেন না। পাব্লিক এদিক ওদিক ঘার নেরে আবার কি-প্যাডে মোন দিচ্চে। ধম্ম নিয়ে কেউ কচলালেই সবাই রেরে কোরে ঝাপাচ্চে। পোত্যেক লাইনে সিক্কাদিক্কা উজার কোরে দিচ্চে। দেশপ্রেমিকরা বোলচে ‘গোরু খাবি তো পাকিস্তান যা’।সবাই মাথা নেরে বোলচে ভেজ খেলে দোষ নেই। গাছ কাটলে চিল্লায় না, ওতোএব, গাছের প্রাণ নেই।

ফেবুজগতে পাব্বনের শেষ নেই। হ্যাপ্পি হাফ ইয়ারও চলে, হ্যাপ্পি বাড্ডে অ্যান মেনি মেনি হ্যাপ্পি রিটানস অব দি দে নেতাজিও চলে। এর সঙ্গে পল্টুর হ্যাপি বাড্ডেও আচে। অ্যাকজোন সুকান্তর জন্মদিনে জগদীশ বোসের ছোবি দিয়েচে বোলে এন্তার খিল্লি হোয়েচে। সবাই নিজো নিজো দেওয়ালে নিজের ছবি চিপকে আহ্লাদে আটষট্টিখানা হোয়ে যাচ্চে। ধড়াদ্ধড় লাইক পোড়চে। কে কবে কার সাথে কোন গাড়িতে কোথায় কদ্দুর বেড়াতে গিয়েচিলো, কি খেয়েচিলো, কবার বাতকম্ম করেচিলো,সব কিচু সারা দুনিয়াকে জানিয়ে দিচ্চে। মুকে রঙ গদ্দানে পাউডার দিয়ে সবাই ছোবি তুলচে, তারওপর কয়েকপোঁচ এডিট, তারপর দেয়ালে পোস্ট। কমেন্ট আসচে-‘পুরো লেতকীলতা সিরিয়ালের মিস চাম্পির মত লাগচে রে!’..। মাছি মারা কেরানি ফেবুতে পুরো ভিলেনমারা সারুখ্খান হোয়ে যাচ্চে। সক্কোলে সক্কোলকে বোলচে, দ্যাকো আমি কি সুন্দোর একটা রুমাল কিনেচি, দ্যাকো আমি আজ এট্টা ফ্যাবু রেস্তোরাঁয় চাইনিজ সাঁটালাম। দ্যাকো আমি কত্ত সুন্দোর পোজ দিয়ে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু কারও দ্যাকার সময় নেই, নিজেরও সাতকাহন জমে গ্যাচে, তাই, লাইক্লাইক্লাইক… কিকেটখ্যামটার নায়কদের নিয়ে যুক্তিপুন্ন আলোচোনা হচ্চে। কে কাল নীল গাড়ি চোরেচিলো বোলে, আজ গোড়াতেই আউট, তা নিয়ে বিসেসগ‍্যরা গ‍্যানগোম্বির মতামৎ দিচ্চেন। কেউ কেউ পুরাণে নোট বাতিলের উল্লেক ছিলো কিনা, তা আবিষ্কারের চেষ্টায় রোয়েচেন।বাসে-টামের বাঙালির কাগোচ নেরে তক্কোটা দেয়ালে উটে এসচে। ছোটখাটো আঁতেল, যারা কলেজ স্কোয়ারে বিশেষ পাত্তা পেত না, তারা ঘরে বসে XL-সাইজ, দেঁড়ে সমালোচক হোয়ে যাচ্চে। ফেবুর কল্যাণে সকোলেই কোবি, সকোলেই বিপ্লোবি। টিউশন-খোকা থেকে বিড়ি-দাদা, ছবি-খবর-ভিডিও তুরন্ত শেয়ার কোরে সমাজসচেতন ‘ৎ’ হোয়ে যাচ্চে। অ্যাক হ্যাশট্যাগ-এ সমোস্ত বিপ্লোবি এক হোয়ে যাচ্চে, ঝান্ডা লাগচে না। ঘরে বোসে ট্রাম্পের পর্দাফাঁস কোরতে কোরতে, IPL এর মুখরোচক খবরাখবোরও নেওয়া যাচ্চে, দুঅ্যাকবার নীলচে ওয়েবসাইটেও ঢুঁ মেরে আসা যাচ্চে। টিভি-সার্কাসের সঙেদের খেউড়-যুদ্দো পাব্লিক চেটেপুটে নিচ্চে। দাদা বোলচেন ছেলে ঢুকিয়ে দেবেন, পাব্লিক লাইক দিচ্চে। দাদা নিজে ঢুকে গেলেন, পাব্লিক লাইক দিচ্চে। আঙুল চোলচে, মগজ স্ট্যান্ডবাঈ আচে। এইভাবে দেকতে দেকতে দিনটা গ্যালে, পাব্লিক পাষবালিশের সঙ্গে সেলফি পোস্ট করে, ‘স্লিপিং’ স্ট্যাটাস দিয়ে দিচ্চেন।


বোই

বোই এট্টি কিম্বুত জিনিস। অ্যাকগাদা কাগোচে হিজিবিজি লিকে অ্যাকোত্তো কোরে জুড়ে বোই তোইরি হয়। তাতে না থাকে হাড়কাঁপানো অ্যাকশন, না পিলেচমকানো নাচ-গান। তোবু কিচু ন্যালাক্যাপা টাইপের লোক বোই বোই কোরে মুচ্ছো যায়। বোই পরা খুব খারাপ ওভ্যেস।বেশিক্কোন বোই পোর্লে চোকের দিষ্টিশোকতি কমে,তকোন মোবাইলে চোক গুঁজে সে রোগের উপোসম কোর্তে হয়।এছারা বোই পোর্লে ফেসবুক প্রোভিতি গুরুত্তপুন্ন কাজে সময় দেয়া যায় না। ফেসবুক কোর্লে গ্যান-বিগ্গ্যান, ইতিহাস, ভূগোল, দেশ, সমাজ নিয়ে প্রচুর জিনিস জানা যায়। অপোরদিকে বোই পোর্লে লোকে কুয়োমুন্ডু মুখ্যু তোইরি হয়। বোই পোর্লে চটজোলদি বিচার করার খমোতা নষ্টো হোয়ে যায়। সেজোন্য বোইমুকো পাব্লিক অ্যাকদোম ম্যাদামারা টাইপের হয়। ধোরুন, আপ্নি শুনলেন, কেউ গোরু খাচ্চে, ঝটাকসে ধোরে পিটে দিলেন, তা না, তারা বিচার কোর্তে বোসবে, খাওয়ার ওধিকার আচে কি না, খাওয়াটা অন্যায় কোতাও লেকা আচে কিনা। আরে সব যোদি লেকাই তাকবে, তবে তো লোকে বোইই পোর্তো। তারপর ধোরুন, কোতাও শুনলেন, বিবেকানোন্দো বোলেচেন “হিন্দু ধম্মো হোচ্চে শ্রেষ্টো ধম্মো, তাই made in India শ্রেষ্টো ভারোত গোড়তে গ্যালে হিন্দু ছাড়া কাউকে তিষ্টোতে দেয়া চোলবে না।”, তুরন্ত শেয়ার কোরে কোতায় জনোসচেতনোতা বাড়িয়ে দেবেন, তা না, ইতিহাস বোই খুলে মেলাতে বোসে গ্যালো! বত্তোমানে বোই পোর্লে লোকে আঁতেল,বোইপোকা ইত্তাদি বোলে গাল দেয়। সেজোন্য জুবোসমাজ বিরোক্তিভরে এই বিশ্রী জিনিসটি থেকে মুক ঘুরিয়েচে। যেজোন্য অ্যাকোন বোই সুদু বোইয়ের দোকানে সাজানো থাকে। খুব নাম ফেটে যাওয়া লেককদের লেকা বোই মাজে মাজে দু-অ্যাক কপি বেরিয়ে গেলেও ছোট পুঁজিপাটার লেককদের লেকা বোই চেনা পরিচিত ছাড়া কেউ ন্যায় না। তবে ককোনও সকোনও কিচু লোককে দেকা যাচ্চে,যারা প্রোচুর বোইয়ের নাম জানেন। তারা বিভিন্ন লেককের এবং তাদের লেকার গুরুগোম্বির সমালোচনা করে থাকেন। নিজেদের তারা intellectual ও cultural পাব্লিক বলে পরিচয় দ্যান। এদের কয়েকটি বিশেষ জায়গায়, জ্যামোন–নন্দন,কফিহাউসের আশেপাশেই দেকা যায়। তবে, এট্টু গোভিরে গেলে হয়তো দেকবেন এনারা আলোচনা ও সমালোচনা কোর্তে কোর্তে বেশিরভাগ সোময়েই বোই গুলো এট্টু পোড়ে দেকার সময় কোরে উটতে পারেন্না, বুক রিভিউ পোড়েই কাজ চালিয়ে ন্যান। এদের কেউ কেউ আবার হটাৎ কলমকুমার হয়ে ওটার চেষ্টায় যা দেকেন তাই ভ‍্যাড়ভেড়িয়ে লিকতে শুরু কোরে দ্যান। কিন্তু সেই ঘোটিহারা লেককের ভাষাহারা লেকাও অ্যাকদিন বোই হোয়ে বেরিয়ে যায়। এর্পর, আবার একেওকে গচানোর চেষ্টা, তার্পর তাকে দেকলেই চেনাপরিচিতের দুদ্দাড়িয়ে পলায়ন। সেই অ্যাক কিসসা। তবে আচকাল, সিনেমা হলের কিউ বা খেলার মাঠের ভিড় দেকে মনে হয়,পয়সার অভাবেই লোকে বোই কেনে না,নাহোলে কি হত ভেবে ভয়ে হাত পা পেটের ভিতর সেঁদিয়ে যায়। এ নিয়ে একটা ছোট্ট গপ্পো বোলে শেষ করি,’অ্যাকবার,অ্যাক ধনী গিন্নি স্বামীর জন্মোদিনের সওগাত কিনতে গেচেন।দোকানদার এইটা সেইটা নেড়ে চেড়ে অনেক কিচুই দেকালেন,কিচুই পছোন্দো হোলো না। অ্যাকটা কোরে জিনিস দেকানো হয়, আর গিন্নি নাক উঁচু কোরে জানান, সবই তার স্বামীর ভাণ্ডারে আচে। তকোন শেষ মুহূর্তের খড়কুটো ধরার মোতো দোকানি বল্লেন, “এট্টা বোই দিলে হত না?” গিন্নিটি ঈষৎ নাক কুঁচকে বোল্লেন,”বোই? সেও তো ওঁর অ্যাকখান আচে।”…


ঘুষ

ঘুষ অ্যাকরকোমের পদাত্থো, যা বিভিন্নো আপিস-কাছারিতে কাজের গোতি বাড়ানোর জোন্য lubricant হিসাবে দেওয়া হয়। আরেকরকোমের ঘুষ হয়, যা খমোতদাদা বা দিদিদের হাতে (ককোনো চ্যালাদের হাতে) দিনকে রাত কোর্তে বা কাউকে কিচু পাইয়ে দিতে দেওয়া হয়, তাকে অবোশ্য ওনুদান বলে। এধরোনের ওনুদান লাঠিওয়ালারাও নিয়ে থাকেন চোক বন্দো রাকার জোন্য, সেটাকে আবার নজরানা বলে। এই দুইধরনের লোক আরো এট্টি জিনিস ন্যান, তা হল নিয়মিত ও পর্যাবৃত্ত ঘুষ। ছোটলোকে তাকে ‘তোলা’ এবং ভদ্দরলোকে ‘সেলামি’ বলে। এর বিশেসত্তো হোলো, দাতার কোন প্রোয়োজোন না পোর্লেও এটা সোময় মোতো দিতে হয় এবোং গ্রহীতারাই উজ্জুগ কোরে আদায় কোরে ন্যান। এছারাও অনেক রকোম ঘুষ অ্যাকোন দেকা যাচ্চে, তাদের রঙবেরঙের ব্যাবহারও দেকা যাচ্চে। ‘বাঙ্ময় ঘুষ’ অত্থাৎ তোষামোদ এবং ‘কম্মোময় ঘুষ’ অত্থাৎ ফাইফর্মাস খাটারও অ্যাকোন খুব কদোর। এই সিল্পোটি টিকঠাক রপ্তো কোর্তে পার্লে আচকাল অনেক কিচুই পাওয়া যাচ্চে। অ্যাকোন মহারাজা বা মহারানীদের চামচে হতে গেলে এই সিল্পে ভালো দখোল থাকতেই হবে, এরকোমটাই শোনা যাচ্চে। সে কতা যাক, বত্তোমানে আমরা সুদু ঘুষ আর তার উপোকারিতা নিয়েই কতা বোলবো। এ কতা মানতেই হবে ঘুষ খুবই উপোকারী জিনিস। কারো কাচে এটি ওত্যন্তো ভিটামিন সমৃদ্দো খাবার, যা ব্যাংক ব্যালেন্সের সু্সাস্থো গঠোন করে। অবশ্যো EMI আক্রোমোণের পোতিসেধক হিসাবেও ঘুষ বোহুল ব্যাবোহৃত। কিন্তু কতাটা হোলো ঘুষ কে খায়? এ পোশ্নের জবাব দেওয়া মুস্কিল। কৌটিল্যবাবু বোলেচিলেন “মাছ ককোন জল খায়, আর রাজপুরুষ ককোন ঘুষ ন্যায় বোজা মুস্কিল।” যেটা উহ্য রেকেচিলেন তা হোলো “মাছ য্যামোন জল ছাড়া বাঁচে না, ত্যামোনই … ইত্যাদি ইত্যাদি”। কে ককোন কিভাবে ঘুষ খাচ্চে, আপ্নি বুজতে পার্বেন্না। আপ্নার কানে আসতেই পারে– “এ যাত্রা কোনোরকোমে উৎরে দাও, জোড়া পাঁটা বোলি দোবো।” কিংবা “প্লিজ এট্টু সাম্লে দাও, ফিরে তো শপিংয়ে যাচ্চিই।” কিন্তু আপ্নি কিচু বুজতে পার্বেন্না। ঘুষ অনেকটা পেটোর মোতো, দুম করে সক্কোলের ড্যাবড্যাব করে খোলা চোকের সামনে ফাটলেও, কে ককোন ছুঁড়চে কেউ দেকতে পায় না। তবে বুজতে পার্লেও না বোজাই উচিত, কারোন আপ্নি জানেন, কাজ পেতে গেলে মেশিনে এট্টু তেল দেয়া বালো, আপ্নি জানেন সোজা আঙুলে কোনোদিনই ঘি ওটে না, যেটুকু ওটে সেটুকুু চেটে মেরে দেয়ার জোন্যেও যথেষ্টো নয়। আপ্নি জানেন পরিচয়পত্র বানাতে, বাড়ির প্ল্যান পাস হতে, গাড়ির লাইসেন্স পেতে, কলেজে ভর্তি হতে, চাকরি জোটাতে, টিকিট কাটতে, জলের লাইন নিতে, যেকোন পরিষেবা পেতে এট্টু-আদটু ‘ইয়ে’ লেগেই থাকে। ঘুষ দেয়া কোনো ব্যাপারই না, বরং ঘুষ না দেয়া অনেক শক্তো কাজ। অতোএব আঙুল তুল্লে চোলবে না, তবে মানতে হবে, ঘুষ খাওয়াটাও অ্যাট্টা আর্ট, সব্বার আসে না। বেশ কিচু খেত্রে দেকা যায়, ঘুষ বাবোদ মাস মাইনের চেয়ে বেশিই রোজগার হয়। তাহোলে মানতেই হয়, আপিসের কাজ করার চেয়ে ঘুষ খাওয়ায় বেশি পরিশ্রম। এরপর তো কোনো কতা চলে না বস্। তবে ঘুষমহাবিদ্যা অলিম্পিক্ যদি করা যেতো, তবে তাতে সোনা লাঠিওয়ালাদের বাঁধা। লিকে রাকুন রুপো যাচ্চে ফাইলপোষা টেবিলওয়ালাদের দপ্তরে। ব্রোঞ্জ ধরুন জোড়হাত পাঞ্জাবিওয়ালারাই নিচ্চে, তবে বিপুল সংকায় পোতিযোগী যোগ্দানে পোতিযোগিতা বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্বাবোনা বিস্তর। ‘উৎকোচ তত্ত্ব’ যারা পোড়েচেন, তারা জানেন, জেলা জজ লোকনাথ পাল বিভিন্ন পোকার ঘুষ সমোন্দে নোট নিচ্চিলেন। বত্তোমানে জীবিতো থাকলে তিনি নিচ্চয় বোলতেন– “নোটের খাতাটি ফুরালো, প্রাণটা আমার জুড়ালো।”

Advertisements

চে

অক্টোবর ১৯৬৭, বলিভিয়ার লা হিগুয়েরার উত্তরে এক স্কুল ঘর। হাত-পা বাঁধা অবস্থায়, বাঁ পায়ের মাসলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়, দেওয়ালে ঠেস দিয়ে কোনরকমে বসে আছেন একজন লোক, রক্ত-কাদায় মাখামাখি মুখ, ছেঁড়া জামাকাপড়, নিদ্রাহীন, অনাহারক্লিষ্ট শরীর, ক্রমাগত বিশ্বাসঘাতকতায় ক্লান্ত-অবসন্ন মন। সামনেই ধুলোভর্তি মেঝেয় পড়ে রয়েছে দুই দীর্ঘদিনের বন্ধু, সহযোদ্ধা, আন্তোনিও ও আর্তুরো– নিথর, রক্তাক্ত। লোকটি, ডঃ আর্নেস্তো গুয়েভারা দ্য লা সেরনা, পৃথিবী তাঁকে চেনে ‘চে’ বলে। দুজন সেনাকর্তাকে দেখে উঠে বসতে চেষ্টা করলেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। নিঃশেষিত, শারীরিকভাবেই শুধু, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরেই বুঝিয়ে দিলেন, একটুও চিড় ধরেনি আত্মবিশ্বাসে, একটুও টাল খায়নি আদর্শ।

— তুমি কিউবান, না আর্জেন্টাইন?

— গোটা লাতিন আমেরিকাই আমার স্বদেশ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার যেকোন নিপীড়িত মানুষ আমার বন্ধু, আমার সহযোদ্ধা।

— ডাক্তার হয়েও এপথে এলে কেন?

— দু একটি ডাক্তারি গবেষনায়, কয়েকজন রোগীর চিকিৎসায় সমাজের কল্যাণ হত হয়ত, সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতি করা যেত না। সমস্ত মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হলে, গোটা সমাজব্যবস্থা বদলাতে হবে, মানুষকে মুক্তি দিতে হবে দুঃখ, দারিদ্র, শোষণ থেকে।

— এই মুহূর্তে কি মনে পড়ছে, আর্জেন্টিনা, ছেলেবেলা, না কিউবার কথা?

— লাতিন আমেরিকার নিপীড়িত জনগণের কথাই মনে পড়ছে। আমি তাদের মুক্তি দিয়ে যেতে পারলাম না।

— তুমি তাহলে নিজের অসহায়ত্বের কথাই ভাবছ?

— না, আমি ভাবছি বিপ্লবের অমরত্বের কথা।

এরপর যখন এক মদ্যপ, অপ্রকৃতিস্থ সৈনিককে পাঠানো হল তাঁকে গুলি করার জন্য, তিনি বললেন, “যদি আমাকে মারতেই এসে থাক, তবে কর গুলি, কাপুরুষ, তোমরা শুধু একটা মানুষকেই মারতে চলেছ।”

তিনি জানতেন কয়েকটা বুলেট একটা শরীরকেই মারতে পারে শুধু, আদর্শের মৃত্যু হয় না। তিনি জানতেন,– “আমার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই জন্ম হবে আমার।”
      ১৯২৮, ১৪ই জুন, তিনি জন্মেছিলেন আর্জেন্টিনায়। এ জন্য কি আর্জেন্টাইন বলা যায় তাঁকে? কখনই নয়, তিনি যে যথার্থ বিশ্বনাগরিক পরবর্তীকালে কাজে ও কথায় তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। মা ছিলেন মার্ক্সবাদী চিন্তায় দীক্ষিত, মার থেকেই প্রভাবিত হন তিনি। দেশের মানুষ কিভাবে বেঁচে আছে, কিভাবে দিন কাটাচ্ছে, কিভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি করা যায়, জানার আগ্রহ ছিল প্রবল। স্কুলে পড়ার সময় ১৩ বছর বয়সে সাইকেলে ঘুরে এলেন আর্জেন্টিনা, সঙ্গী এক বন্ধু, পঁচাত্তর পেসো, স্কুলের শিক্ষকদের লিখে দেওয়া একটি পরিচয়পত্র, আর অনিয়ন্ত্রনযোগ্য হাঁপানির টান। এরপর, ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হয়ে যাওয়ার পরও পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন বিভিন্ন প্রদেশ। ১৯৫৯ এ আলবার্তো গ্রানাদো এবং চে, মোটরবাইকে চেপে ঘুরে এলেন গোটা লাতিন আমেরিকা, মোটরবাইক অবশ্য অর্ধেক রাস্তায় খারাপ হয়ে যায়, বাকি রাস্তায় পায়ে হেঁটে বা হিচ-হাইক করে। স্কুলে পড়াকালীনই রাজনীতিতে উৎসাহী অংশগ্রহণ, কর্ডোভা প্রদেশে তরুণ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। অ্যাজমায় আক্রান্ত, দুর্বল ‘চে’-কে বিপ্লবের অযোগ্য বলে মনে করতেন সঙ্গীরা। সে জন্যই কঠোর অধ্যবসায়, জয় করতেই হবে শারীরিক প্রতিকূলতা। পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান শ্রমিক-কৃষক বস্তিতে, মিশে যান তাদের মধ্যে, তাদেরই একজন হয়ে। তিনি দেখলেন, দেশের মানুষ একটা কৃত্রিম জীবনযাপন করছে, জীবনধারণের ন্যূনতম রসদটুকুও জোগাড় করে উঠতে পারছে না অনেকে। একই চিত্র গোটা লাতিন আমেরিকায়। তাঁর চোখে তখন মুক্তির স্বপ্ন, শোষিত মানুষের মুক্তি, গোটা লাতিন আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকার মুক্তির স্বপ্ন। রাশিয়া স্বপ্ন দেখাচ্ছে, স্বপ্ন দেখাচ্ছে চীন। পারিবারিক জীবনেও নানা প্রতিকূলতা, অভাব, ঔদাসীন্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নানা কারণে বাবা মা বিচ্ছিন্ন হলেন, ভাইবোনের দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়ল তাঁর উপর, মা চাইলেন না ‘চে’ ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিক। পড়ার সাথে সাথে পার্টটাইম কাজ করতে থাকলেন, উচ্চমানের মেধার পরিচয় দিয়ে ছয় বছরের পড়া তিন বছরে শেষ করলেন। ডাক্তারি পড়ার সময় গবেষণা ছাড়া অন্য কিছু মাথায় ছিলনা, কিন্তু দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাল্টে দিল চিন্তাভাবনা। লাতিন আমেরিকার আর্ত মানুষের ডাক যেন ঘুমোতে দিচ্ছে না তাঁকে। গুয়েতেমালায় গেলেন সেখানকার দুরবস্থার কথা শুনে। সেখানকার সরকারি মনোভাব, কমিউনিস্ট পার্টির কার্যকলাপ তাঁর পছন্দ হল না। তিনি বুঝতে পারছিলেন শুধু সেনাবাহিনী দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না, জনগণের হাতে অস্ত্র দিতে হবে, হোমগার্ড বাহিনী গঠন করতে হবে। গণতান্ত্রিক আরবানজ সরকারকে রক্ষা করতে যুব কমিউনিস্ট মিলিশিয়ায় যোগ দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেন। কিন্তু সিআইএর ক্রমাগত উস্কানি এবং প্রত্যক্ষ সহযোগে সমাজবিরোধীরা সফল হল, শেষরক্ষা হল না। পরাজিত, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সদ্যপরিচিত কজন কিউবান বিপ্লবীর সঙ্গে চলে গেলেন মেক্সিকো। যাওয়ার সময় বললেন আমার স্লোগান হল, “ছোট ঝোলা, শক্ত পা, আর ফকিরের পাকস্থলী।” কিছুদিন সেখানে পাহারাদার থেকে সহকারী গবেষক, বিভিন্ন পেশায় কাজ করলেন। এই মেক্সিকো ভ্রমণও চে’র ভাষায়, “রাজনীতির স্টেথোস্কোপে লাতিন আমেরিকার নাড়ি দেখা।” সেখানেই রবার্তো ফেসিরেসের মাধ্যমে আলাপ ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে। এক বিশ্বাসঘাতকের জন্য গোপন আশ্রয় ও প্রশিক্ষনস্থল এক খামারবাড়ি থেকে ধরা পড়লেন ফিদেল-চে সহ অন্যান্যরা। মেক্সিকান পুলিশকে টাকা দিয়ে পালালেন তাঁরা। ১৯৫৬, ২৫শে নভেম্বর টুক্সপান বন্দর থেকে সূচনা হল ‘গ্রানমা’ অভিযানের। চে বললেন–“হয় আমরা স্বাধীন হব, নয়ত শহীদ হব।” একের পর এক সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ, জয়লাভ, জনগণের আস্থা অর্জন, বিপ্লবী দল এগিয়ে চলল। সিয়েরা মায়েস্ত্রোয় অনেকখানি মুক্তাঞ্চল তৈরি হয়েছে, হাসপাতাল, রুটির কারখানা,খামার, চুরুট, চামড়ার কারখানা স্থাপিত হল। ১৭ জুলাই সবাই মূল ঘাঁটিতে ফিরে এলে চে কে কম্যান্ডান্ট ঘোষণা করা হল। চে’র দায়িত্ব হল, গেরিলাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষা, শত্রুদের বিভ্রান্ত করা, কুখ্যাত মানচেজ মোসকেরার বাহিনীকে পরাস্ত করা। চে সাফল্যের সঙ্গে এই বাহিনী নিশ্চিহ্ন করেন, কৃষি সংস্কার, ভূস্বামীদের থেকে কর আদায় করতে থাকেন। যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হয়, একের পর এক সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ ও বিজয়, বিপ্লবীরা জনসমর্থন পেতে থাকেন। এর মধ্যে একাধিকবার চে’র মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়। চে’র বাহিনী সান্তা ক্লারা দখল করে। বাতিস্তা সরকার মরিয়া হয়ে চরম প্রতিক্রিয়াশীল ওঠে। এতে বিপ্লবীদের প্রতি সমর্থন আরো বাড়ে, সাংবাদিকরা আসেন, সেনাবাহিনীর একাংশ ফিদেলের সঙ্গে যোগ দেয়। চে’র বাহিনী সান্তা ক্লারা দখল করে। চে সেনাপ্রধানের প্রতি আত্মসমর্পণ করে রক্তপাত এড়ানোর আহবান জানান। ২রা জানুয়ারি হাভানা দুর্গের আত্মসমর্পণে বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হল। চে বললেন, “আমাদের বিপ্লব এই শিক্ষা দেয় যে জনগণ সমর্থিত একটি ছোট দল যদি মৃত্যুকে জয় করার সাহস দেখায়, তবে সুশৃঙ্খল একটি বড় সেনাবাহিনীকেও ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে।” বিপ্লবী সরকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং অর্থমন্ত্রী হলেন চে। বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করলেন, ফোর্ট নক্স থেকে কৌশলে কিউবার সম্পত্তি সরিয়ে সেগুলো মার্কিনিদের হাত থেকে সুরক্ষিত করলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করলেন কিউবা পুনর্গঠনে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কিউবার প্রতিনিধিত্ব করে তুলে ধরলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ।কিন্তু বিপ্লবী মন তৃপ্ত হল না। তাঁর কাছে কিউবার বিজয় তো ‘লাতিন আমেরিকা বিজয়ের প্রথম ধাপ’, তিনি এতে সন্তুষ্ট থাকেন কি করে? সমস্ত ছেড়ে আবার বেরিয়ে পড়লেন অজানার উদ্দেশ্যে। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল লাতিন আমেরিকারই কোন দেশ, কিন্তু ফিদেলের পীড়াপীড়িতে চলে গেলেন কঙ্গো। সেখানে সাংগঠনিক কাজ খুব ভাল এগোল না, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিরোধিতা, কৃষক শ্রেণীর সন্দেহ, সর্বোপরি কমিউনিস্ট পার্টির অসহযোগিতা বিপ্লবকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিল। বহুদিন জনসমক্ষে চে’র অনুপস্থিতি, সোভিয়েত প্রসঙ্গে ফিদেলের সঙ্গে মতবিরোধে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছিল। তার অবসান ঘটাতে ও জনমানসে চে’র ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে গিয়ে একটি ভুল করলেন ফিদেল, চে’র শেষ চিঠি জনসমক্ষে পড়ে শোনালেন। এতে সিআইএ সতর্ক হয়ে গেল। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে চে’র একটা দূরত্বও তৈরি হল। তারা বিপ্লব সফল করে ঘরে ফিরে যেতে আগ্রহী, চে’র স্বপ্নে ফিরে যাওয়ার কোন উল্লেখই নেই! চে সঙ্গীদের ফেরত পাঠিয়ে আমৃত্যু থেকে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সকলের চাপে শেষ পর্যন্ত গোপনে হাভানায় ফিরে যান। আগে অবশ্য কঙ্গোর দূতাবাসে ব্যর্থতার পর্যালোচনা করে একটি বই লেখেন, ছ মাস সেখানেই থাকেন। হাভানায় ফিদেল এবং অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী গন্তব্য স্থির হয় বলিভিয়া। ঠিক হল ১৭ জন কিউবান বিপ্লবীকে নিয়ে চে যাবেন বলিভিয়ায়, ওখানকার কমিউনিস্ট পার্টির সহায়তায় গেরিলা দল গড়ে তোলা হবে। সেইমত কাজ শুরু হল, বেসক্যাম্পে তখন ২৪ জন। অনেক পরে যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি মাঞ্জো। কাজ এগোনোর সাথে সাথে মাঞ্জোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা সেরে ফেললেন চে। মাঞ্জো একটু ঘাবড়ে গেলেন, তিনি শুধুমাত্র বলিভিয়ার ক্ষমতা দখল নিয়ে আগ্রহী, এদিকে চে বলিভিয়াকে দেখছেন লাতিন আমেরিকার মুক্তির একটি সোপান হিসাবে। তিনি আশঙ্কা করলেন বিপ্লবী সরকার গঠিত হলে তিনি হয়ত সম্পূর্ণ ক্ষমতা করায়ত্ত করতে পারবেন না, তিনি গেরিলাবাহিনীর কতৃত্ব দাবি করে বসলেন। চে একজন অনভিজ্ঞের হাতে দায়িত্ব ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তিনি বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। সরকারের হাতে সমস্ত তথ্য তুলে দিতে থাকলেন, ঘোষণা করলেন গেরিলা দলের সংশ্রবে থাকলে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের বহিষ্কার করা হবে এবং গেরিলাদলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে গেলেন কৃষকদের মধ্যে। উপরন্তু সিআইএ প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতে থাকল সরকারি সেনাবাহিনীকে। গেরিলাবাহিনী এই দ্বিমুখী আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে গেল। চে লড়াই ছেড়ে পালানোর কথা ভাবলেন না। তিনি মনে করতেন তাঁর থেকে,তাঁর আদর্শের বেঁচে থাকা বেশি প্রয়োজনীয়, তাই সমাজতন্ত্রের পতাকা ত্যাগ করলেন না। নিজের জীবন উৎসর্গ করে পতাকাটা তুলে দিতে চাইলেন আগামী প্রজন্মের হাতে। তিনি বলতেন, “মৃত্যু আমাদের বিস্মিত করে, তবুও তাকে স্বাগত, যদি আমাদের আহ্বান একটিও উৎসুক কানে পৌঁছায়, একটিও হাত এগিয়ে আসে আমাদের রাইফেলগুলো তুলে নেওয়ার জন্য।”

    নিপীড়িত মানুষের আর্তি যেন সর্বক্ষণ কানে বাজত, চোখের সামনে দেখতেন নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, স্বপ্ন দেখতেন লড়াই করে তাকে পরাস্ত করার। স্বপ্ন দেখতেন গড়ে তোলার ‘এক, দুই, অনেক ভিয়েতনাম’। স্বপ্ন দেখায় কোন দেশ সীমানা ছিল না। তেমনি সীমা ছিল না আত্মত্যাগের। তিনি জানতেন, “আমরা জীবনে কোন কিছু পেতে পারি না, যতক্ষণ না আমরা তার জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত থাকি।” ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ, বৈভব, বিলাস, পছন্দ সর্বোপরি নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন বিপ্লবের ডাকে, স্বপ্নকে বাস্তব করার অদম্য ইচ্ছায়, এক উন্নততর সমাজের স্বপ্নে। চে’র স্বপ্ন কিন্তু এখনও অধরাই। চে তাঁর পতাকা কারো  হাতে তুলে দিয়ে যেতে পারেননি, পুঁতে রেখে গিয়েছেন নিজের রক্তে ভেজা মাটিতে। যে ই উঠিয়ে নেবে সেই পতাকা, সেইই পাবে বিপ্লবের উত্তরাধিকার। তিনি তো বলেইছিলেন,– “যদি প্রত্যেক অবিচারে ঘৃণায়, ক্রোধে কেঁপে ওঠ, তবে তুমি আমার সহযোদ্ধা।”

ফেসবুক সংগৃহীত রচনাবলী

বর্তমানকালে জ্ঞানলাভ অত্যন্ত সহজ একটি প্রক্রিয়া, অন্তর্জালীয় মাধ্যমে আঙ্গুলের কেরামতিতে নিমেষব্যয়ে যেকোন বিষয় সম্বন্ধে অশেষ তথ্য পাওয়া সম্ভব। তদুপরি,ফেসবুক,প্রভৃতি মঞ্চ জগতের প্রায় সকল বিদ্বজনকে একত্রিত করিতে পারায় তাহাদিগের জ্ঞানগর্ভ আলোচনার প্রসাদ পাইয়া মোর ন্যায় কাষ্ঠমূর্খের দল বিশেষ লাভবান হইয়া থাকে। এক্ষণে এ গৌরচন্দ্রিকার কারণ ব্যক্ত করি, আমি কিছুকাল যাবৎ  অন্তর্জালীয় গুণীজনেদের সঙ্গলাভ করিয়া বিভিন্ন বিষয়, বিভিন্ন সময় সম্পর্কে যে সমস্ত জ্ঞানলাভ করিয়াছি, তাহার কিছু চিত্তাকর্ষক অংশ আমি জাতির উদ্দেশ্যে নিবেদন করিতে মনস্থ করিয়াছি, সে জন্যই প্রথমেই গুণীজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিলাম। আমি এগুলিকে সংখ্যা চিহ্নিত অনুচ্ছেদে বিভাজিত করিয়া লিপিবদ্ধ করিলাম, তাহাতে মূর্খের সুবিধা হইবে বোধ করি। গুণীজনে যাহা বলিয়া থাকেন তাহা পুঙ্খানুপুঙ্খ উদ্ধৃত করিবার ক্ষমতা নাই, তবে তাহা কিছু এইপ্রকারই, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।

১. লেনিন বেনামে অনেক সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন, স্তালিন তাঁকে হত্যা করিয়া সেইসব দখল করেন। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে এম কে স্তালিন সেইসব পাইয়াছেন।

২. চে গুয়েভারা একজন আমেরিকান রকস্টার, দেশবিরোধী গান লেখার কারণে বিতাড়িত হইয়া কিউবায় আশ্রয় নেন।

৩. ফিদেল কাস্ত্রো কলগার্লদের সঙ্গে সমস্ত রাত্রি, এবং বেসবল খেলিতে সমস্ত দিন অতিবাহিত করিতেন।ফিদেল একজন আমেরিকার মদতপুষ্ট লুম্পেন শাসক ছিলেন। তবে তিনি যে এতকাল জীবিত ছিলেন, তাহা তাঁহার মৃত্যুতেই অনেকে জানিলেন।

৪. কমিউনিস্ট শাসকরা প্রত্যেকেই অত্যন্ত স্বৈরাচারী, লুম্পেন চরিত্রের হইয়া থাকেন। ইহা ভিন্ন বাকি সমস্ত নেতাদের কাহারও চরিত্রের দোষ নাই,কোন নেশা নাই, অত্যন্ত গণতন্ত্রপ্রিয়, নির্লোভ হইয়া থাকেন। কমিউনিস্টরা আসলে একধরনের ডাকাত, ইহাদের সংস্রব জঙ্গিগোষ্ঠীর ন্যায় পরিত্যাজ্য।

৫. আমেরিকার সকল প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সচ্চরিত্র, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হইয়া থাকেন। ইহারা সকল দেশের কথা ভাবেন বলিয়াই মাঝেমধ্যে একটু-আধটু বোমা-গুলি বৃষ্টি করিয়া পশ্চাৎপদ দেশগুলিকে সাহায্য করিয়া থাকেন।

৬. গ্লোবাল ওয়ার্মিং আমেরিকা ও অন্যান্য দেশের উন্নতির গতিরোধ করিবার চক্রান্ত মাত্র। ওজোন স্তরে ছিদ্র হইলেই তো বিকিরিত রশ্মি অবাধে নির্গত হইয়া যায়, তাহলে আর উষ্ণতা বৃদ্ধি হয় কিরূপে?

৭. প্রচুর পরিমাণ নূতন নোট ছাপিলেই অর্থনীতির সকল সমস্যার সমাধান হয়। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা নিতান্ত নির্বোধ বলিয়াই এইপ্রকার একটি সহজতম পথ ছাড়িয়া অযথা বিষয়টিকে জটিল করিয়া তোলেন।

৮. মানবেতিহাসের সর্বাধিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা হইলেন নরেন্দ্র মোদী, এই কারণেই তিনি সমস্ত সিদ্ধান্ত একাই গ্রহণ করিয়া থাকেন, ও মাঝেমধ্যে কুপমণ্ডূকদের সমালোচনা কুড়াইয়া থাকেন। একান্ত তাঁহার চিন্তার সঙ্গে dynamically তাল রাখিতে পারে না বলিয়াই নোবেল কমিটি…

৯.আমেরিকা সাক্ষাৎ স্বর্গ, সেইস্থানে লোকে যাহা বাসনা তাহাই পাইয়া থাকে, যাহা ইচ্ছা তাহাই করিতে পারে, ওইস্থানে কোন কিছুরই অভাব নাই, কোন বদপ্রকৃতি লোক নাই, সকলের অবাধ স্বাধীনতা। মুসলিম দেশগুলিতে অবশ‍্য বিপরীত অবস্থা, যদিও উহারা বিধর্মী দেখিলেই ভক্ষণ করিয়া থাকে, তাহার জন্যই উহাদের সঙ্গে ‘আক্রমণই সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিরক্ষা’ নীতি গ্রহণ করা উচিত।

১০. ভারতীয় উপমহাদেশ অতীতে জ্ঞানে বিজ্ঞানে অতীব উন্নত ছিল, সেকালে উড়োজাহাজ তো শিশু, Time machine, Teleportation পর্যন্ত আবিষ্কৃত হইয়াছিল। মেঘনাদের রথ UFO র নিদর্শন, ব্রহ্মাস্ত্র প্রকৃতপক্ষে Ballistic missile, teleporting এর দৃষ্টান্ত তো পুরাণে মুহুর্মুহু।

১১.পুরাণে সর্বরোগের ঔষধ বিবৃত করা আছে, শরীরে গোবর লেপন করিলে সমস্ত তেজস্ক্রিয় রশ্মি হইতে রক্ষা পাওয়া যায়। বিশল্যকরণীর সহিত মধু মিশ্রিত করিয়া পুণ্যচিত্তে সেবন করিলে কর্কটরোগ নিরাময় হইয়া থাকে।

১২.বাস্তুমতে বাড়ি করিলে তাহা ঝঞ্ঝা-ভূমিকম্প-বন্যায় অটুট থাকে। জ্যোতিষবিদ্যা হইল একমাত্র সত্য, চাঁদের আকর্ষণে নদীর জল ফুলিয়া উঠে, কাহারও কপাল ফুলিয়া উঠাও অসম্ভব নহে। সঠিক রত্নধারণে বিশ্বজয় করা সম্ভব। চাঁদে মানুষের পদার্পণ মিথ্যাপ্রচার, চাঁদ বলিয়া যাহার ছবি প্রচার করা হইয়া থাকে, তাহা প্রকৃতপক্ষে চন্দ্রদেবের দুর্গের প্রাচীরমাত্র।

১৩. ডারউইনের বিবর্তনবাদ উন্মাদের প্রলাপ, মানুষ মানুষরূপেই আবির্ভুত হয়, তাহার পূর্বে ছিলেন শুধু ব্রহ্মা, প্রাণী ছিলেন গোরু, অর্থাৎ গোমাতা।

১৪. ১৩ অত্যন্ত অপবিত্র সংখ্যা, অমঙ্গল আশঙ্কায় এই অনুচ্ছেদটি নিয়মরক্ষার ন্যায় যোগ করা হইল।
কেহ যদি সম্পূর্ন না পড়িয়াই সমালোচনা, বিচার, মন্তব্য করেন, তাহা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হইবে, কারণ বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী কোন বিষয় সম্পর্কে সামান্যতম ধারণাহীন ব্যক্তির মতামতই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূূর্ণ বলিয়া গণ্য হইয়া থাকে। সেই কারণে কোন রচনা সম্পর্কে তাহার মতামতই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, যিনি সেটি পড়েন নাই।