মনে হয় বৃষ্টিতে ভেজা দরকার

মাঝে মাঝে মনে হয় বৃষ্টিতে ভিজতে পারলে ভাল হত,অতীত, ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে,পথের পাশে বসে উদ্দেশ্যহীন।আমার ভিতর কাদার মত আকাঙ্খা লেগে থাকে। হে পথিক, তোমার বন্ধনহীনতা আমায় মুগ্ধ করে।দেখ, আমার কাঁধে আমার ফেলে আসা পথ,পথিক হওয়ার লোভ আমাকে পথের থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।আমার দিগন্ত দৃষ্টিকোণে সীমাবদ্ধ,জ্ঞানের বোঝা আমার পথ রুদ্ধ করে। স্বপ্নে আমি সেই … Continue reading মনে হয় বৃষ্টিতে ভেজা দরকার

বীরপুরুষের মা

গল্পটা যখন শুরু হচ্ছে, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। লকডাউনের জেরে রাস্তাঘাট শুনশান। বীরপুরুষ ও তার মা একটা ছোট্ট ঘরে বসে চা খাচ্ছিল। তেজ কমে আসা টিউবলাইটের আলোয় ঘরের সামান্য কয়েকটি আসবাবপত্রকে একটু মনমরা দেখাচ্ছে। এই গল্পে বীরপুরুষের নাম মনো তাই তার মাকে সকলে মনোর মা বলেই চেনে। টিভিতে দুটো লোক সমানে তর্ক করে যাচ্ছে। টিভির … Continue reading বীরপুরুষের মা

খামারবাড়ির রূপকথা

এক যে গাধা, বনের ধারে তার মালিকের খামার বাড়ি। খাবার ছিল যৎসামান্য, কাজের বহর খুবই ভারী। দুই পা গেলে চাবুক ছিল, মাথা তোলার জো ছিল না, তবুও সে দিব্যি ছিল, মানিয়ে নেওয়ার নেই তুলনা। স্বাধীনতা স্বপ্ন বিলাস, আপোস হল কাজের কথা পেটের আগুন নিভলে পরে আর কিছু নেই মাথাব্যথা। একদিন এক বন্য হরিণ পড়ল এসে … Continue reading খামারবাড়ির রূপকথা

লোকটা

একদিন আমি পথে যেতে যেতে দেখেছিলাম লোকটাকে। লোকটা নাচছে। লোকটাকে ঘিরে ধরেছে লাউডস্পিকারের জান্তব গর্জন, আর রঙিন উজ্জ্বল আলোগুলো ঝলসে দিয়ে যাচ্ছে লোকটার মুখ। তবু লোকটা নেচে যাচ্ছে। হয়ত আগের দিনই ছিল লোকটার মাসমাইনের দিন, অথবা হতেও পারে লোকটা তিনমাস মাইনে পায়নি; বা কারখানাটাই বন্ধ হয়ে গেছে আজ বছরখানেক হল। লোকটা সেসবের পরোয়া করে না। … Continue reading লোকটা

রাষ্ট্রশক্তি বনাম একটি সম্ভাবনা

দৃশ্য ১          ক্লিক্‌ করে একটা শব্দ শুনে ধড়মড় করে উঠে বসল ক্রোম্যান। বালিশের নিচ থেকে ULGটা বের করে হাতে নিয়ে, বাঁ হাতে একটি বিশেষ মুদ্রা করে নাইটল্যাম্প জ্বালাল। একটা ছোট্ট মিনিবট, কালো, বড়সড় একটা গুবরে পোকার মত দেখতে, দরজার নিচের খানিকটা অংশ মাখনের মত কেটে ফেলেছে। একটা লেসার পয়েন্টার এদিক ওদিক নেচে ক্রোম্যানের উপর … Continue reading রাষ্ট্রশক্তি বনাম একটি সম্ভাবনা

ছোট্ট একটা ‘মে দিবস’

একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ির ছোট্ট একটা দু-কামরার ফ্ল্যাটে থাকে আমাদের ছোট্ট বন্ধু টিনটিন, পাপা আর মার সঙ্গে। তার একটা বিশাল কাবার্ড আছে।তার মধ্যে আছে অনেকগুলো রঙিন ড্রেস, একটা ব্যাট, একটা ফুটবল আর অনেকগুলো বুক। টিনটিন এখন ক্লাস ফাইভ, কিন্তু ওর দশটা সাবজেক্ট, তার জন্য বারোটা বুক, যে সাবজেক্টটা সবচেয়ে বাজে, সেই অঙ্কের জন্য দুটো বুক। কিছু … Continue reading ছোট্ট একটা ‘মে দিবস’

জীবন, বাড়ি আছো ?

আট ফুট বাই আট ফুট ঘরের ছোট্ট জানালাটা, যেটা খুললেই দেড় ফুটের একটা তেকোনা আকাশ দেখা যেত একটা তার দিয়ে আড়াআড়ি দুভাগে ভাগ করা, ওটার সামনেই তেপায়া টুলটার উপর বসে, রেডিওটা গাইছিল, 'চাঁদ কেন আসে না আমার ঘরে'। তালে তালে হাওয়ায় দুলছিল উপরের দড়ি থেকে ঝোলা লুঙ্গি আর গামছা। বাথরুমের টিনের বালতিতে জল পড়ার শব্দে … Continue reading জীবন, বাড়ি আছো ?

নকশি ক‍্যাঁতার আগুন(সংকোলিতো)

শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিৎ পোকাশোকের কথা শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিতকে যারা চেনেন, তারা সকোলেই জানেন, তিনি কতো বড়ো লেকক এবং চিন্তাবিদ ছিলেন। য‍্যামোন ছিলো তাঁর বুদ্দি, ত‍্যামোন উচ্চবিচার। মানুষ পোতিভার কদোর জানে না, তাই তিনি ত্যামোন কোনো পুরোস্কার পান্নি, তাঁর অসামান্নো সিষ্টিগুলোর কোনো সংকলোনও হয়নি। তাঁর রচোনাগুলি অল্পো কিচু লোকের কাচেই পরিচিতো ছিলো। যোদিও সেই মহান আত্তাকে … Continue reading নকশি ক‍্যাঁতার আগুন(সংকোলিতো)