চে

অক্টোবর ১৯৬৭, বলিভিয়ার লা হিগুয়েরার উত্তরে এক স্কুল ঘর। হাত-পা বাঁধা অবস্থায়, বাঁ পায়ের মাসলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়, দেওয়ালে ঠেস দিয়ে কোনরকমে বসে আছেন একজন লোক, রক্ত-কাদায় মাখামাখি মুখ, ছেঁড়া জামাকাপড়, নিদ্রাহীন, অনাহারক্লিষ্ট শরীর, ক্রমাগত বিশ্বাসঘাতকতায় ক্লান্ত-অবসন্ন মন। সামনেই ধুলোভর্তি মেঝেয় পড়ে রয়েছে দুই দীর্ঘদিনের বন্ধু, সহযোদ্ধা, আন্তোনিও ও আর্তুরো– নিথর, রক্তাক্ত। লোকটি, ডঃ আর্নেস্তো গুয়েভারা দ্য লা সেরনা, পৃথিবী তাঁকে চেনে ‘চে’ বলে। দুজন সেনাকর্তাকে দেখে উঠে বসতে চেষ্টা করলেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। নিঃশেষিত, শারীরিকভাবেই শুধু, কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরেই বুঝিয়ে দিলেন, একটুও চিড় ধরেনি আত্মবিশ্বাসে, একটুও টাল খায়নি আদর্শ।

— তুমি কিউবান, না আর্জেন্টাইন?

— গোটা লাতিন আমেরিকাই আমার স্বদেশ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার যেকোন নিপীড়িত মানুষ আমার বন্ধু, আমার সহযোদ্ধা।

— ডাক্তার হয়েও এপথে এলে কেন?

— দু একটি ডাক্তারি গবেষনায়, কয়েকজন রোগীর চিকিৎসায় সমাজের কল্যাণ হত হয়ত, সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতি করা যেত না। সমস্ত মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হলে, গোটা সমাজব্যবস্থা বদলাতে হবে, মানুষকে মুক্তি দিতে হবে দুঃখ, দারিদ্র, শোষণ থেকে।

— এই মুহূর্তে কি মনে পড়ছে, আর্জেন্টিনা, ছেলেবেলা, না কিউবার কথা?

— লাতিন আমেরিকার নিপীড়িত জনগণের কথাই মনে পড়ছে। আমি তাদের মুক্তি দিয়ে যেতে পারলাম না।

— তুমি তাহলে নিজের অসহায়ত্বের কথাই ভাবছ?

— না, আমি ভাবছি বিপ্লবের অমরত্বের কথা।

এরপর যখন এক মদ্যপ, অপ্রকৃতিস্থ সৈনিককে পাঠানো হল তাঁকে গুলি করার জন্য, তিনি বললেন, “যদি আমাকে মারতেই এসে থাক, তবে কর গুলি, কাপুরুষ, তোমরা শুধু একটা মানুষকেই মারতে চলেছ।”

তিনি জানতেন কয়েকটা বুলেট একটা শরীরকেই মারতে পারে শুধু, আদর্শের মৃত্যু হয় না। তিনি জানতেন,– “আমার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই জন্ম হবে আমার।”
      ১৯২৮, ১৪ই জুন, তিনি জন্মেছিলেন আর্জেন্টিনায়। এ জন্য কি আর্জেন্টাইন বলা যায় তাঁকে? কখনই নয়, তিনি যে যথার্থ বিশ্বনাগরিক পরবর্তীকালে কাজে ও কথায় তার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। মা ছিলেন মার্ক্সবাদী চিন্তায় দীক্ষিত, মার থেকেই প্রভাবিত হন তিনি। দেশের মানুষ কিভাবে বেঁচে আছে, কিভাবে দিন কাটাচ্ছে, কিভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি করা যায়, জানার আগ্রহ ছিল প্রবল। স্কুলে পড়ার সময় ১৩ বছর বয়সে সাইকেলে ঘুরে এলেন আর্জেন্টিনা, সঙ্গী এক বন্ধু, পঁচাত্তর পেসো, স্কুলের শিক্ষকদের লিখে দেওয়া একটি পরিচয়পত্র, আর অনিয়ন্ত্রনযোগ্য হাঁপানির টান। এরপর, ডাক্তারি পড়তে ভর্তি হয়ে যাওয়ার পরও পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন বিভিন্ন প্রদেশ। ১৯৫৯ এ আলবার্তো গ্রানাদো এবং চে, মোটরবাইকে চেপে ঘুরে এলেন গোটা লাতিন আমেরিকা, মোটরবাইক অবশ্য অর্ধেক রাস্তায় খারাপ হয়ে যায়, বাকি রাস্তায় পায়ে হেঁটে বা হিচ-হাইক করে। স্কুলে পড়াকালীনই রাজনীতিতে উৎসাহী অংশগ্রহণ, কর্ডোভা প্রদেশে তরুণ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। অ্যাজমায় আক্রান্ত, দুর্বল ‘চে’-কে বিপ্লবের অযোগ্য বলে মনে করতেন সঙ্গীরা। সে জন্যই কঠোর অধ্যবসায়, জয় করতেই হবে শারীরিক প্রতিকূলতা। পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ান শ্রমিক-কৃষক বস্তিতে, মিশে যান তাদের মধ্যে, তাদেরই একজন হয়ে। তিনি দেখলেন, দেশের মানুষ একটা কৃত্রিম জীবনযাপন করছে, জীবনধারণের ন্যূনতম রসদটুকুও জোগাড় করে উঠতে পারছে না অনেকে। একই চিত্র গোটা লাতিন আমেরিকায়। তাঁর চোখে তখন মুক্তির স্বপ্ন, শোষিত মানুষের মুক্তি, গোটা লাতিন আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকার মুক্তির স্বপ্ন। রাশিয়া স্বপ্ন দেখাচ্ছে, স্বপ্ন দেখাচ্ছে চীন। পারিবারিক জীবনেও নানা প্রতিকূলতা, অভাব, ঔদাসীন্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নানা কারণে বাবা মা বিচ্ছিন্ন হলেন, ভাইবোনের দেখাশোনার দায়িত্ব এসে পড়ল তাঁর উপর, মা চাইলেন না ‘চে’ ডাক্তারি পড়া ছেড়ে দিক। পড়ার সাথে সাথে পার্টটাইম কাজ করতে থাকলেন, উচ্চমানের মেধার পরিচয় দিয়ে ছয় বছরের পড়া তিন বছরে শেষ করলেন। ডাক্তারি পড়ার সময় গবেষণা ছাড়া অন্য কিছু মাথায় ছিলনা, কিন্তু দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাল্টে দিল চিন্তাভাবনা। লাতিন আমেরিকার আর্ত মানুষের ডাক যেন ঘুমোতে দিচ্ছে না তাঁকে। গুয়েতেমালায় গেলেন সেখানকার দুরবস্থার কথা শুনে। সেখানকার সরকারি মনোভাব, কমিউনিস্ট পার্টির কার্যকলাপ তাঁর পছন্দ হল না। তিনি বুঝতে পারছিলেন শুধু সেনাবাহিনী দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীলদের অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না, জনগণের হাতে অস্ত্র দিতে হবে, হোমগার্ড বাহিনী গঠন করতে হবে। গণতান্ত্রিক আরবানজ সরকারকে রক্ষা করতে যুব কমিউনিস্ট মিলিশিয়ায় যোগ দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিলেন। কিন্তু সিআইএর ক্রমাগত উস্কানি এবং প্রত্যক্ষ সহযোগে সমাজবিরোধীরা সফল হল, শেষরক্ষা হল না। পরাজিত, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সদ্যপরিচিত কজন কিউবান বিপ্লবীর সঙ্গে চলে গেলেন মেক্সিকো। যাওয়ার সময় বললেন আমার স্লোগান হল, “ছোট ঝোলা, শক্ত পা, আর ফকিরের পাকস্থলী।” কিছুদিন সেখানে পাহারাদার থেকে সহকারী গবেষক, বিভিন্ন পেশায় কাজ করলেন। এই মেক্সিকো ভ্রমণও চে’র ভাষায়, “রাজনীতির স্টেথোস্কোপে লাতিন আমেরিকার নাড়ি দেখা।” সেখানেই রবার্তো ফেসিরেসের মাধ্যমে আলাপ ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে। এক বিশ্বাসঘাতকের জন্য গোপন আশ্রয় ও প্রশিক্ষনস্থল এক খামারবাড়ি থেকে ধরা পড়লেন ফিদেল-চে সহ অন্যান্যরা। মেক্সিকান পুলিশকে টাকা দিয়ে পালালেন তাঁরা। ১৯৫৬, ২৫শে নভেম্বর টুক্সপান বন্দর থেকে সূচনা হল ‘গ্রানমা’ অভিযানের। চে বললেন–“হয় আমরা স্বাধীন হব, নয়ত শহীদ হব।” একের পর এক সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ, জয়লাভ, জনগণের আস্থা অর্জন, বিপ্লবী দল এগিয়ে চলল। সিয়েরা মায়েস্ত্রোয় অনেকখানি মুক্তাঞ্চল তৈরি হয়েছে, হাসপাতাল, রুটির কারখানা,খামার, চুরুট, চামড়ার কারখানা স্থাপিত হল। ১৭ জুলাই সবাই মূল ঘাঁটিতে ফিরে এলে চে কে কম্যান্ডান্ট ঘোষণা করা হল। চে’র দায়িত্ব হল, গেরিলাবাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষা, শত্রুদের বিভ্রান্ত করা, কুখ্যাত মানচেজ মোসকেরার বাহিনীকে পরাস্ত করা। চে সাফল্যের সঙ্গে এই বাহিনী নিশ্চিহ্ন করেন, কৃষি সংস্কার, ভূস্বামীদের থেকে কর আদায় করতে থাকেন। যুদ্ধক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হয়, একের পর এক সামরিক ঘাঁটি আক্রমণ ও বিজয়, বিপ্লবীরা জনসমর্থন পেতে থাকেন। এর মধ্যে একাধিকবার চে’র মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হয়। চে’র বাহিনী সান্তা ক্লারা দখল করে। বাতিস্তা সরকার মরিয়া হয়ে চরম প্রতিক্রিয়াশীল ওঠে। এতে বিপ্লবীদের প্রতি সমর্থন আরো বাড়ে, সাংবাদিকরা আসেন, সেনাবাহিনীর একাংশ ফিদেলের সঙ্গে যোগ দেয়। চে’র বাহিনী সান্তা ক্লারা দখল করে। চে সেনাপ্রধানের প্রতি আত্মসমর্পণ করে রক্তপাত এড়ানোর আহবান জানান। ২রা জানুয়ারি হাভানা দুর্গের আত্মসমর্পণে বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠিত হল। চে বললেন, “আমাদের বিপ্লব এই শিক্ষা দেয় যে জনগণ সমর্থিত একটি ছোট দল যদি মৃত্যুকে জয় করার সাহস দেখায়, তবে সুশৃঙ্খল একটি বড় সেনাবাহিনীকেও ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে।” বিপ্লবী সরকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং অর্থমন্ত্রী হলেন চে। বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করলেন, ফোর্ট নক্স থেকে কৌশলে কিউবার সম্পত্তি সরিয়ে সেগুলো মার্কিনিদের হাত থেকে সুরক্ষিত করলেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করলেন কিউবা পুনর্গঠনে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কিউবার প্রতিনিধিত্ব করে তুলে ধরলেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপ।কিন্তু বিপ্লবী মন তৃপ্ত হল না। তাঁর কাছে কিউবার বিজয় তো ‘লাতিন আমেরিকা বিজয়ের প্রথম ধাপ’, তিনি এতে সন্তুষ্ট থাকেন কি করে? সমস্ত ছেড়ে আবার বেরিয়ে পড়লেন অজানার উদ্দেশ্যে। তাঁর প্রথম পছন্দ ছিল লাতিন আমেরিকারই কোন দেশ, কিন্তু ফিদেলের পীড়াপীড়িতে চলে গেলেন কঙ্গো। সেখানে সাংগঠনিক কাজ খুব ভাল এগোল না, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিরোধিতা, কৃষক শ্রেণীর সন্দেহ, সর্বোপরি কমিউনিস্ট পার্টির অসহযোগিতা বিপ্লবকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিল। বহুদিন জনসমক্ষে চে’র অনুপস্থিতি, সোভিয়েত প্রসঙ্গে ফিদেলের সঙ্গে মতবিরোধে নানা সন্দেহ তৈরি হচ্ছিল। তার অবসান ঘটাতে ও জনমানসে চে’র ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে গিয়ে একটি ভুল করলেন ফিদেল, চে’র শেষ চিঠি জনসমক্ষে পড়ে শোনালেন। এতে সিআইএ সতর্ক হয়ে গেল। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে চে’র একটা দূরত্বও তৈরি হল। তারা বিপ্লব সফল করে ঘরে ফিরে যেতে আগ্রহী, চে’র স্বপ্নে ফিরে যাওয়ার কোন উল্লেখই নেই! চে সঙ্গীদের ফেরত পাঠিয়ে আমৃত্যু থেকে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সকলের চাপে শেষ পর্যন্ত গোপনে হাভানায় ফিরে যান। আগে অবশ্য কঙ্গোর দূতাবাসে ব্যর্থতার পর্যালোচনা করে একটি বই লেখেন, ছ মাস সেখানেই থাকেন। হাভানায় ফিদেল এবং অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী গন্তব্য স্থির হয় বলিভিয়া। ঠিক হল ১৭ জন কিউবান বিপ্লবীকে নিয়ে চে যাবেন বলিভিয়ায়, ওখানকার কমিউনিস্ট পার্টির সহায়তায় গেরিলা দল গড়ে তোলা হবে। সেইমত কাজ শুরু হল, বেসক্যাম্পে তখন ২৪ জন। অনেক পরে যোগ দিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি মাঞ্জো। কাজ এগোনোর সাথে সাথে মাঞ্জোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা সেরে ফেললেন চে। মাঞ্জো একটু ঘাবড়ে গেলেন, তিনি শুধুমাত্র বলিভিয়ার ক্ষমতা দখল নিয়ে আগ্রহী, এদিকে চে বলিভিয়াকে দেখছেন লাতিন আমেরিকার মুক্তির একটি সোপান হিসাবে। তিনি আশঙ্কা করলেন বিপ্লবী সরকার গঠিত হলে তিনি হয়ত সম্পূর্ণ ক্ষমতা করায়ত্ত করতে পারবেন না, তিনি গেরিলাবাহিনীর কতৃত্ব দাবি করে বসলেন। চে একজন অনভিজ্ঞের হাতে দায়িত্ব ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তিনি বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। সরকারের হাতে সমস্ত তথ্য তুলে দিতে থাকলেন, ঘোষণা করলেন গেরিলা দলের সংশ্রবে থাকলে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের বহিষ্কার করা হবে এবং গেরিলাদলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে গেলেন কৃষকদের মধ্যে। উপরন্তু সিআইএ প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতে থাকল সরকারি সেনাবাহিনীকে। গেরিলাবাহিনী এই দ্বিমুখী আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে গেল। চে লড়াই ছেড়ে পালানোর কথা ভাবলেন না। তিনি মনে করতেন তাঁর থেকে,তাঁর আদর্শের বেঁচে থাকা বেশি প্রয়োজনীয়, তাই সমাজতন্ত্রের পতাকা ত্যাগ করলেন না। নিজের জীবন উৎসর্গ করে পতাকাটা তুলে দিতে চাইলেন আগামী প্রজন্মের হাতে। তিনি বলতেন, “মৃত্যু আমাদের বিস্মিত করে, তবুও তাকে স্বাগত, যদি আমাদের আহ্বান একটিও উৎসুক কানে পৌঁছায়, একটিও হাত এগিয়ে আসে আমাদের রাইফেলগুলো তুলে নেওয়ার জন্য।”

    নিপীড়িত মানুষের আর্তি যেন সর্বক্ষণ কানে বাজত, চোখের সামনে দেখতেন নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, স্বপ্ন দেখতেন লড়াই করে তাকে পরাস্ত করার। স্বপ্ন দেখতেন গড়ে তোলার ‘এক, দুই, অনেক ভিয়েতনাম’। স্বপ্ন দেখায় কোন দেশ সীমানা ছিল না। তেমনি সীমা ছিল না আত্মত্যাগের। তিনি জানতেন, “আমরা জীবনে কোন কিছু পেতে পারি না, যতক্ষণ না আমরা তার জন্য জীবন পর্যন্ত দিতে প্রস্তুত থাকি।” ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ, বৈভব, বিলাস, পছন্দ সর্বোপরি নিজের জীবনটাই উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন বিপ্লবের ডাকে, স্বপ্নকে বাস্তব করার অদম্য ইচ্ছায়, এক উন্নততর সমাজের স্বপ্নে। চে’র স্বপ্ন কিন্তু এখনও অধরাই। চে তাঁর পতাকা কারো  হাতে তুলে দিয়ে যেতে পারেননি, পুঁতে রেখে গিয়েছেন নিজের রক্তে ভেজা মাটিতে। যে ই উঠিয়ে নেবে সেই পতাকা, সেইই পাবে বিপ্লবের উত্তরাধিকার। তিনি তো বলেইছিলেন,– “যদি প্রত্যেক অবিচারে ঘৃণায়, ক্রোধে কেঁপে ওঠ, তবে তুমি আমার সহযোদ্ধা।”

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s