নকশি ক‍্যাঁতার আগুন(সংকোলিতো)

শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিৎ


পোকাশোকের কথা

শ্রী শ্রী শৃগালপোণ্ডিতকে যারা চেনেন, তারা সকোলেই জানেন, তিনি কতো বড়ো লেকক এবং চিন্তাবিদ ছিলেন। য‍্যামোন ছিলো তাঁর বুদ্দি, ত‍্যামোন উচ্চবিচার। মানুষ পোতিভার কদোর জানে না, তাই তিনি ত্যামোন কোনো পুরোস্কার পান্নি, তাঁর অসামান্নো সিষ্টিগুলোর কোনো সংকলোনও হয়নি। তাঁর রচোনাগুলি অল্পো কিচু লোকের কাচেই পরিচিতো ছিলো। যোদিও সেই মহান আত্তাকে এই খুদ্র পরিসরে ধরা সম্ভব নয়, তোবুও তাঁর কিত্তিগুলিকে অ্যাকোত্ত করার চেষ্টা করা হোলো। এই পোবন্দোগুলিতে তাঁর মহাশৃগালীয় পজ্জোবেক্কন খমোতা, দুরোদিষ্টি, বিশ্লেষোনী খমোতার পরিচয় পাওয়া যাবে। য‍্যামোন বোহুমুকি ছিলো তাঁর পোতিভা, ত্যামোনই বিভিন্নো বিষয়েও লিকেচেন তিনি।

মুকবন্দো

এটি কি হোচ্চে ক্যানো হোচ্চে যারা আগে তেকেই কলোরব কোর্চে তাদের জানানো যাচ্চে যে এটি তাদের মুক দড়াম্ করে বন্দো কোরে দেবার জোগাড়। এটি ক্যানো লেকা হোলো, তা যদি কারো পোশ্নো হয় তো তার উত্তোর দিতে আমার বোয়ে গ্যাছে। তোবু কতাটা যকোন উটলোই, তকোন, যারা সব জেনেও না জানার ভান কোরে মটকা মেরে তাকেন, বা যারা না জেনেও সবজান্তা গামছাওয়ালা সেজে তাকেন, সকোলের জোন্যই বলা যাক; অ্যাকোন চাদ্দিকে চোক রাকলে দেকা যাবে, অনেক কিচুই হোচ্চে, কিন্তু চোরি চোরি চুপকে চুপকে। আমাদের কাচে ওসব হেঁকোড়বাজি চোলবে না। আমাদের সবকিচুই দুদ্দাড়িয়ে খুল্লামখুল্লা। আমাদের কতা হোলো যা খাচ্চি তাই হাগচির মোতো যা দেকচি তাই লিকচি। আমরা ল্যাম্পপোস্টের মোতো যেকানে সেকানে দাঁড়িয়ে থাকি, আর উপোর তেকে দেকার জোন্যোই অনেক কিচুই চোকে পড়ে। তাই বোম্মার মোতো, আমরাও জানি, গোপোন কম্মোটি। একানে রসনচৌকি বসানোর উদ্দেশ্যো হোলো ঢাক পিটানো। কার ঢাক,জেনে লাভ নেই, যদ্দিন আপ্নার না হয়, তদ্দিনই আপ্নার বালো। যদি ভাবেন পোর্লেই বুজে ফেলবেন, কার ঢাক কে পিটচে, তবে পোরেই দেকুন। চোক খোলা রাকুন, পোর্তে তাকুন, কারোন পোর্তে হয়, নাহোলে পিচিয়ে পোর্তে হয়, জানেন তো? অ্যাকবার ধপাস কোরে পিচিয়ে পোর্লে, পোর্তেই তাকবেন, তকোন রাস্তা আপ্নার আগে চোলে যাবে। সেজোন্য পোড়ুন,গ্যান জমান, পিচিয়ে পোর্বেন্না।


ভার্চুয়াল

বত্তোমানে অ্যাক নয়া জগোতের আমদানি হোয়েচে। আমদানি এ জগোতেই হোয়েচে, কিন্তু রকোম দেকে তাকে এ জগোতের কিচু বোলে ঠাওরানো শক্তো। এ জগোতে কেউ সোত্যি সোত্যি না থাকলেও, অনেকেই মনে করেন তাঁরা আসোলে এ জগোতেই বেঁচে আচেন। এ জগোতে ফিজিক্স ইকোনোমিক্স ও কোন ট্রাফিক নিয়ম পাত্তা পায় না। এ জোন্নো একানে ককোন কি হবে আগেভাগে বলা মুস্কিল্ । তবে তাতে একানে কারো উৎসাহে ভাঁটা পড়েনি, এবং রগোড় থেকে খেউড় কিচ্চুটি বাদ যাচ্চে না, বরোং উপরি হোচ্চে। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্চে একে নাকি ‘ভার্চুয়াল’ বলে। ভার্চুয়াল জনোতার কান্ড-কারকানা দেকে বোম্বাচাক লেগে যাচ্চে। ম্যাংগো-পাব্লিক সকালব‍্যালা চায়ের কাপে বিবেকানোন্দোর বানি দিয়ে সবাইকে গুড মন্নিং কোরে দিচ্চে। সকালে উঠে কার কিরকোম লাগচে, ‘ফিলিং ল্যাদ’, না ‘ফিলিং পটি’ সবাই স্ট্যাটাসে দিচ্চে। সক্কোলে ব্যাস্তো, অ্যাক্সিডেন না অন্নোপাসন, না দেখেই লাইক্লাইক্লাইক। চোর-বুদ্দিজিবি-নেতা পাব্লিক যাকে সামনে পাচ্চে, খচাকসে সেলফি নিচ্চে। কেউ কেউ রেল্লাইনের সঙ্গে ছোবি তুলতে গিয়ে গুপুস্ কোরে ছোবি হয়ে যাচ্চে। অ্যাসিস্টেন কেরানি ভার্চুয়ালে উদ্দাম ‘রেবেলিয়ান’ হয়ে যাচ্চে। আবার, ছাত্তরা মা-কালির ম্যাসেজ বারোজোনকে ফরওয়াড কোরে সুখবোরের আসা কোচ্চে। কেউ প্রেমে ঘা খে, জীবনানন্দো টুকে সুনীল গাঙ্গুলির পোদ্য শেয়ার কোর্চে। পাব্লিক গম্বির মুকে সব দেখচে সুনচে আর লাইক দিচ্চে। সিবিআই-হেমামালিনী-বাহুবোলী সব নিয়েই পাইকিরি হারে ট্রল হচ্চে। কুইন বোলেচেন আমি সব জানি, আমাকে চমকাবেন না, সাধু বোলেচেন গোরু খাবেন না। পাব্লিক এদিক ওদিক ঘার নেরে আবার কি-প্যাডে মোন দিচ্চে। ধম্ম নিয়ে কেউ কচলালেই সবাই রেরে কোরে ঝাপাচ্চে। পোত্যেক লাইনে সিক্কাদিক্কা উজার কোরে দিচ্চে। দেশপ্রেমিকরা বোলচে ‘গোরু খাবি তো পাকিস্তান যা’।সবাই মাথা নেরে বোলচে ভেজ খেলে দোষ নেই। গাছ কাটলে চিল্লায় না, ওতোএব, গাছের প্রাণ নেই।

ফেবুজগতে পাব্বনের শেষ নেই। হ্যাপ্পি হাফ ইয়ারও চলে, হ্যাপ্পি বাড্ডে অ্যান মেনি মেনি হ্যাপ্পি রিটানস অব দি দে নেতাজিও চলে। এর সঙ্গে পল্টুর হ্যাপি বাড্ডেও আচে। অ্যাকজোন সুকান্তর জন্মদিনে জগদীশ বোসের ছোবি দিয়েচে বোলে এন্তার খিল্লি হোয়েচে। সবাই নিজো নিজো দেওয়ালে নিজের ছবি চিপকে আহ্লাদে আটষট্টিখানা হোয়ে যাচ্চে। ধড়াদ্ধড় লাইক পোড়চে। কে কবে কার সাথে কোন গাড়িতে কোথায় কদ্দুর বেড়াতে গিয়েচিলো, কি খেয়েচিলো, কবার বাতকম্ম করেচিলো,সব কিচু সারা দুনিয়াকে জানিয়ে দিচ্চে। মুকে রঙ গদ্দানে পাউডার দিয়ে সবাই ছোবি তুলচে, তারওপর কয়েকপোঁচ এডিট, তারপর দেয়ালে পোস্ট। কমেন্ট আসচে-‘পুরো লেতকীলতা সিরিয়ালের মিস চাম্পির মত লাগচে রে!’..। মাছি মারা কেরানি ফেবুতে পুরো ভিলেনমারা সারুখ্খান হোয়ে যাচ্চে। সক্কোলে সক্কোলকে বোলচে, দ্যাকো আমি কি সুন্দোর একটা রুমাল কিনেচি, দ্যাকো আমি আজ এট্টা ফ্যাবু রেস্তোরাঁয় চাইনিজ সাঁটালাম। দ্যাকো আমি কত্ত সুন্দোর পোজ দিয়ে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু কারও দ্যাকার সময় নেই, নিজেরও সাতকাহন জমে গ্যাচে, তাই, লাইক্লাইক্লাইক… কিকেটখ্যামটার নায়কদের নিয়ে যুক্তিপুন্ন আলোচোনা হচ্চে। কে কাল নীল গাড়ি চোরেচিলো বোলে, আজ গোড়াতেই আউট, তা নিয়ে বিসেসগ‍্যরা গ‍্যানগোম্বির মতামৎ দিচ্চেন। কেউ কেউ পুরাণে নোট বাতিলের উল্লেক ছিলো কিনা, তা আবিষ্কারের চেষ্টায় রোয়েচেন।বাসে-টামের বাঙালির কাগোচ নেরে তক্কোটা দেয়ালে উটে এসচে। ছোটখাটো আঁতেল, যারা কলেজ স্কোয়ারে বিশেষ পাত্তা পেত না, তারা ঘরে বসে XL-সাইজ, দেঁড়ে সমালোচক হোয়ে যাচ্চে। ফেবুর কল্যাণে সকোলেই কোবি, সকোলেই বিপ্লোবি। টিউশন-খোকা থেকে বিড়ি-দাদা, ছবি-খবর-ভিডিও তুরন্ত শেয়ার কোরে সমাজসচেতন ‘ৎ’ হোয়ে যাচ্চে। অ্যাক হ্যাশট্যাগ-এ সমোস্ত বিপ্লোবি এক হোয়ে যাচ্চে, ঝান্ডা লাগচে না। ঘরে বোসে ট্রাম্পের পর্দাফাঁস কোরতে কোরতে, IPL এর মুখরোচক খবরাখবোরও নেওয়া যাচ্চে, দুঅ্যাকবার নীলচে ওয়েবসাইটেও ঢুঁ মেরে আসা যাচ্চে। টিভি-সার্কাসের সঙেদের খেউড়-যুদ্দো পাব্লিক চেটেপুটে নিচ্চে। দাদা বোলচেন ছেলে ঢুকিয়ে দেবেন, পাব্লিক লাইক দিচ্চে। দাদা নিজে ঢুকে গেলেন, পাব্লিক লাইক দিচ্চে। আঙুল চোলচে, মগজ স্ট্যান্ডবাঈ আচে। এইভাবে দেকতে দেকতে দিনটা গ্যালে, পাব্লিক পাষবালিশের সঙ্গে সেলফি পোস্ট করে, ‘স্লিপিং’ স্ট্যাটাস দিয়ে দিচ্চেন।


বোই

বোই এট্টি কিম্বুত জিনিস। অ্যাকগাদা কাগোচে হিজিবিজি লিকে অ্যাকোত্তো কোরে জুড়ে বোই তোইরি হয়। তাতে না থাকে হাড়কাঁপানো অ্যাকশন, না পিলেচমকানো নাচ-গান। তোবু কিচু ন্যালাক্যাপা টাইপের লোক বোই বোই কোরে মুচ্ছো যায়। বোই পরা খুব খারাপ ওভ্যেস।বেশিক্কোন বোই পোর্লে চোকের দিষ্টিশোকতি কমে,তকোন মোবাইলে চোক গুঁজে সে রোগের উপোসম কোর্তে হয়।এছারা বোই পোর্লে ফেসবুক প্রোভিতি গুরুত্তপুন্ন কাজে সময় দেয়া যায় না। ফেসবুক কোর্লে গ্যান-বিগ্গ্যান, ইতিহাস, ভূগোল, দেশ, সমাজ নিয়ে প্রচুর জিনিস জানা যায়। অপোরদিকে বোই পোর্লে লোকে কুয়োমুন্ডু মুখ্যু তোইরি হয়। বোই পোর্লে চটজোলদি বিচার করার খমোতা নষ্টো হোয়ে যায়। সেজোন্য বোইমুকো পাব্লিক অ্যাকদোম ম্যাদামারা টাইপের হয়। ধোরুন, আপ্নি শুনলেন, কেউ গোরু খাচ্চে, ঝটাকসে ধোরে পিটে দিলেন, তা না, তারা বিচার কোর্তে বোসবে, খাওয়ার ওধিকার আচে কি না, খাওয়াটা অন্যায় কোতাও লেকা আচে কিনা। আরে সব যোদি লেকাই তাকবে, তবে তো লোকে বোইই পোর্তো। তারপর ধোরুন, কোতাও শুনলেন, বিবেকানোন্দো বোলেচেন “হিন্দু ধম্মো হোচ্চে শ্রেষ্টো ধম্মো, তাই made in India শ্রেষ্টো ভারোত গোড়তে গ্যালে হিন্দু ছাড়া কাউকে তিষ্টোতে দেয়া চোলবে না।”, তুরন্ত শেয়ার কোরে কোতায় জনোসচেতনোতা বাড়িয়ে দেবেন, তা না, ইতিহাস বোই খুলে মেলাতে বোসে গ্যালো! বত্তোমানে বোই পোর্লে লোকে আঁতেল,বোইপোকা ইত্তাদি বোলে গাল দেয়। সেজোন্য জুবোসমাজ বিরোক্তিভরে এই বিশ্রী জিনিসটি থেকে মুক ঘুরিয়েচে। যেজোন্য অ্যাকোন বোই সুদু বোইয়ের দোকানে সাজানো থাকে। খুব নাম ফেটে যাওয়া লেককদের লেকা বোই মাজে মাজে দু-অ্যাক কপি বেরিয়ে গেলেও ছোট পুঁজিপাটার লেককদের লেকা বোই চেনা পরিচিত ছাড়া কেউ ন্যায় না। তবে ককোনও সকোনও কিচু লোককে দেকা যাচ্চে,যারা প্রোচুর বোইয়ের নাম জানেন। তারা বিভিন্ন লেককের এবং তাদের লেকার গুরুগোম্বির সমালোচনা করে থাকেন। নিজেদের তারা intellectual ও cultural পাব্লিক বলে পরিচয় দ্যান। এদের কয়েকটি বিশেষ জায়গায়, জ্যামোন–নন্দন,কফিহাউসের আশেপাশেই দেকা যায়। তবে, এট্টু গোভিরে গেলে হয়তো দেকবেন এনারা আলোচনা ও সমালোচনা কোর্তে কোর্তে বেশিরভাগ সোময়েই বোই গুলো এট্টু পোড়ে দেকার সময় কোরে উটতে পারেন্না, বুক রিভিউ পোড়েই কাজ চালিয়ে ন্যান। এদের কেউ কেউ আবার হটাৎ কলমকুমার হয়ে ওটার চেষ্টায় যা দেকেন তাই ভ‍্যাড়ভেড়িয়ে লিকতে শুরু কোরে দ্যান। কিন্তু সেই ঘোটিহারা লেককের ভাষাহারা লেকাও অ্যাকদিন বোই হোয়ে বেরিয়ে যায়। এর্পর, আবার একেওকে গচানোর চেষ্টা, তার্পর তাকে দেকলেই চেনাপরিচিতের দুদ্দাড়িয়ে পলায়ন। সেই অ্যাক কিসসা। তবে আচকাল, সিনেমা হলের কিউ বা খেলার মাঠের ভিড় দেকে মনে হয়,পয়সার অভাবেই লোকে বোই কেনে না,নাহোলে কি হত ভেবে ভয়ে হাত পা পেটের ভিতর সেঁদিয়ে যায়। এ নিয়ে একটা ছোট্ট গপ্পো বোলে শেষ করি,’অ্যাকবার,অ্যাক ধনী গিন্নি স্বামীর জন্মোদিনের সওগাত কিনতে গেচেন।দোকানদার এইটা সেইটা নেড়ে চেড়ে অনেক কিচুই দেকালেন,কিচুই পছোন্দো হোলো না। অ্যাকটা কোরে জিনিস দেকানো হয়, আর গিন্নি নাক উঁচু কোরে জানান, সবই তার স্বামীর ভাণ্ডারে আচে। তকোন শেষ মুহূর্তের খড়কুটো ধরার মোতো দোকানি বল্লেন, “এট্টা বোই দিলে হত না?” গিন্নিটি ঈষৎ নাক কুঁচকে বোল্লেন,”বোই? সেও তো ওঁর অ্যাকখান আচে।”…


ঘুষ

ঘুষ অ্যাকরকোমের পদাত্থো, যা বিভিন্নো আপিস-কাছারিতে কাজের গোতি বাড়ানোর জোন্য lubricant হিসাবে দেওয়া হয়। আরেকরকোমের ঘুষ হয়, যা খমোতদাদা বা দিদিদের হাতে (ককোনো চ্যালাদের হাতে) দিনকে রাত কোর্তে বা কাউকে কিচু পাইয়ে দিতে দেওয়া হয়, তাকে অবোশ্য ওনুদান বলে। এধরোনের ওনুদান লাঠিওয়ালারাও নিয়ে থাকেন চোক বন্দো রাকার জোন্য, সেটাকে আবার নজরানা বলে। এই দুইধরনের লোক আরো এট্টি জিনিস ন্যান, তা হল নিয়মিত ও পর্যাবৃত্ত ঘুষ। ছোটলোকে তাকে ‘তোলা’ এবং ভদ্দরলোকে ‘সেলামি’ বলে। এর বিশেসত্তো হোলো, দাতার কোন প্রোয়োজোন না পোর্লেও এটা সোময় মোতো দিতে হয় এবোং গ্রহীতারাই উজ্জুগ কোরে আদায় কোরে ন্যান। এছারাও অনেক রকোম ঘুষ অ্যাকোন দেকা যাচ্চে, তাদের রঙবেরঙের ব্যাবহারও দেকা যাচ্চে। ‘বাঙ্ময় ঘুষ’ অত্থাৎ তোষামোদ এবং ‘কম্মোময় ঘুষ’ অত্থাৎ ফাইফর্মাস খাটারও অ্যাকোন খুব কদোর। এই সিল্পোটি টিকঠাক রপ্তো কোর্তে পার্লে আচকাল অনেক কিচুই পাওয়া যাচ্চে। অ্যাকোন মহারাজা বা মহারানীদের চামচে হতে গেলে এই সিল্পে ভালো দখোল থাকতেই হবে, এরকোমটাই শোনা যাচ্চে। সে কতা যাক, বত্তোমানে আমরা সুদু ঘুষ আর তার উপোকারিতা নিয়েই কতা বোলবো। এ কতা মানতেই হবে ঘুষ খুবই উপোকারী জিনিস। কারো কাচে এটি ওত্যন্তো ভিটামিন সমৃদ্দো খাবার, যা ব্যাংক ব্যালেন্সের সু্সাস্থো গঠোন করে। অবশ্যো EMI আক্রোমোণের পোতিসেধক হিসাবেও ঘুষ বোহুল ব্যাবোহৃত। কিন্তু কতাটা হোলো ঘুষ কে খায়? এ পোশ্নের জবাব দেওয়া মুস্কিল। কৌটিল্যবাবু বোলেচিলেন “মাছ ককোন জল খায়, আর রাজপুরুষ ককোন ঘুষ ন্যায় বোজা মুস্কিল।” যেটা উহ্য রেকেচিলেন তা হোলো “মাছ য্যামোন জল ছাড়া বাঁচে না, ত্যামোনই … ইত্যাদি ইত্যাদি”। কে ককোন কিভাবে ঘুষ খাচ্চে, আপ্নি বুজতে পার্বেন্না। আপ্নার কানে আসতেই পারে– “এ যাত্রা কোনোরকোমে উৎরে দাও, জোড়া পাঁটা বোলি দোবো।” কিংবা “প্লিজ এট্টু সাম্লে দাও, ফিরে তো শপিংয়ে যাচ্চিই।” কিন্তু আপ্নি কিচু বুজতে পার্বেন্না। ঘুষ অনেকটা পেটোর মোতো, দুম করে সক্কোলের ড্যাবড্যাব করে খোলা চোকের সামনে ফাটলেও, কে ককোন ছুঁড়চে কেউ দেকতে পায় না। তবে বুজতে পার্লেও না বোজাই উচিত, কারোন আপ্নি জানেন, কাজ পেতে গেলে মেশিনে এট্টু তেল দেয়া বালো, আপ্নি জানেন সোজা আঙুলে কোনোদিনই ঘি ওটে না, যেটুকু ওটে সেটুকুু চেটে মেরে দেয়ার জোন্যেও যথেষ্টো নয়। আপ্নি জানেন পরিচয়পত্র বানাতে, বাড়ির প্ল্যান পাস হতে, গাড়ির লাইসেন্স পেতে, কলেজে ভর্তি হতে, চাকরি জোটাতে, টিকিট কাটতে, জলের লাইন নিতে, যেকোন পরিষেবা পেতে এট্টু-আদটু ‘ইয়ে’ লেগেই থাকে। ঘুষ দেয়া কোনো ব্যাপারই না, বরং ঘুষ না দেয়া অনেক শক্তো কাজ। অতোএব আঙুল তুল্লে চোলবে না, তবে মানতে হবে, ঘুষ খাওয়াটাও অ্যাট্টা আর্ট, সব্বার আসে না। বেশ কিচু খেত্রে দেকা যায়, ঘুষ বাবোদ মাস মাইনের চেয়ে বেশিই রোজগার হয়। তাহোলে মানতেই হয়, আপিসের কাজ করার চেয়ে ঘুষ খাওয়ায় বেশি পরিশ্রম। এরপর তো কোনো কতা চলে না বস্। তবে ঘুষমহাবিদ্যা অলিম্পিক্ যদি করা যেতো, তবে তাতে সোনা লাঠিওয়ালাদের বাঁধা। লিকে রাকুন রুপো যাচ্চে ফাইলপোষা টেবিলওয়ালাদের দপ্তরে। ব্রোঞ্জ ধরুন জোড়হাত পাঞ্জাবিওয়ালারাই নিচ্চে, তবে বিপুল সংকায় পোতিযোগী যোগ্দানে পোতিযোগিতা বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্বাবোনা বিস্তর। ‘উৎকোচ তত্ত্ব’ যারা পোড়েচেন, তারা জানেন, জেলা জজ লোকনাথ পাল বিভিন্ন পোকার ঘুষ সমোন্দে নোট নিচ্চিলেন। বত্তোমানে জীবিতো থাকলে তিনি নিচ্চয় বোলতেন– “নোটের খাতাটি ফুরালো, প্রাণটা আমার জুড়ালো।”
বাঙালি

বাঙালি কি, বোল্লে হয়তো পোন্ডিতেরা বোলবেন, বাঙালি এট্টি জাতি; ভুল না হোলেও, ঠিক ফুলমাক্স পাবেন্না। বাঙালি কি, মাপতে গেলে অনেকগুলি উত্তোর মেলে, এক সে বড়কর এক, কিচু বাদ দেওয়া যাবে না।

যারা পর্পর দুটো তৎসম শব্দো শুনলে জিগান, “বাংলা অনার্স?” তাদের বাঙালি বলে। একতাটা এরমও বলা যায়, যে জাতি নেমন্তন্ন বাড়িতে গর্বিত হাসি নিয়ে বলেন “আমার ছেলের না, bengali টা ঠিক আসে না” তাদের বাঙালি বলে।

বা, যে জাতির পাব্লিকের দশ বছোর হোতে না হোতে নস্টালজিয়া জন্মায়, (সবে ফিডিং বোতল ছেড়ে ঘুড়ি-লাটাই ধরা খোকার মুকে হয়ত শোনা গেল, কফিহাউস? — ওঃ! নস্টালজিয়া…) তাদের বাঙালি কয়।

অথবা, যে জাতি ঝকঝকে গাড়ি দেকে গোপোনে দিগ্ঘশ‍্বাস ফ্যালেন, আর মুকে গজ্জান–“grapes are sour” তাদের বাঙালি বলে। এট্টু ওন্যভাবে বোল্লে, যে জাতি ইন্ডিয়া কিংস আর ক্যাপুচিনোয় হাত না পেলে জোরে জোরে বিড়িতে টান দিয়ে বলেন, “হারুর দোকানের চা যারা খায়নি, তাদের জীবনটাই ব্যত্থো” অথোচো মাসপয়লায় পকেট ভর্তি থাকলে লুকিয়ে লুকিয়ে বারিস্তা, তাদের বাঙালি বলে।

এরকোমও বলা যায়, যে জাতির কাচে যুদ্দো-মহামারির চেয়েও বড়ো খবোর ১৯৭২এর ১৭ই জুন সুচিত্রা সেন কি রঙের শাড়ি পোড়েচিলেন্, আর জীবনের একমাত্র মোক্ষো ময়দানে লোটা ও মাচার গুষ্টি উদ্ধার করা, তাদেরকেই বাঙালি বলে।

আবার এটাও বলা যায়, যে জাতি, পুজো আসচে, পুজো এসে গ্যালো, পরের বছোরের পুজো আসচে, এইভাবে সারা বছোরের হিসেব রাকেন, তাকে বাঙালি বলে। উৎসবে বাঙালির উদ্দম জগোৎবিখ্যাত। সোজাসাপ্টা দড়াম করে বোল্লে, ২৫শে বৈশাখ থেকে সরোস‍্যতী পুজো যে কোন পাব্বনে যাদের আমোদে বান ডাকে, তাদের বাঙালি বলে। বাঙালি সারা বছোরই শীতঘুমে থাকেন, উৎসবের সময় এলে হটাৎ চারটে হাত, ছটা পাকস্থলী নিয়ে তেড়েফুঁড়ে ওঠেন।

বোল্লে অনেক কিচুই বলা যায়, সমোস্ত গুণপনা-ছানাপোনা নিয়ে বাঙালি এক unique চিজ। যারা আর সমোস্ত কিচু এন্তার ছড়ালেও লুঙ্গিটা খুব কোষে বাঁদতে জানেন। তবে আচকাল বাঙালি গ্লোবাল হয়ে যাচ্চেন। পরিবত্তন এট্টা হোচ্চেই। আগে বাঙালি পত্রো লিকতে শুরু কোর্তেন সাদুভাষায়, শেষ কোর্তেন কথ্যভাষায়, একন বাঙালি পত্রো লেকেন না, লিকলেও ঝর্ঝরে ইংরিজিতে। একন বাংলার আনাচেকানাচে অনেক NRI তৈরির কারখানা হোয়েচে, ভালো কতায় বলে ‘ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল’। তাই একন বাঙালি ‘দেকচি’, ‘ইয়ে’ এন্তার বোল্লেও, ‘নিশ্চোই’টা বোদলে ‘অফখোস’ হয়ে গেচে। তবে, দেওয়ালে পিচিক্ কোরে থুতু ফেলার, বা হিসি করার ওভ্যেসটা যায়নি। আগে বাঙালির বাজারের চায়ের দোকানে চীন-পাকিস্তান মেরে মার্কিনিদের ধুইয়ে দিয়ে ফেরার পতে লিস্টির দুটো জিনিস বাদ পোড়তো, একন বাঙালি শপিং মলেই বেশি যান, লিস্টিতে জিনিস অ্যাড হোতে থাকে, বাদ পড়ে না। বাঙালিরা চিরোকালই সমাজসচেতন কাকতাড়ুয়া। আগে সোর্স বোলতে ছিলো, চায়ের দোকানের পোল্টুদা আর খবরের কাগোচ, একন যোগ হোয়েচে ফেসবুক। ফেসবুককে বাঙালি আপোন কোরে নিয়েচেন। ফেসবুকে বাঙালি পোদ্য লিকচেন, তক্কো কোর্চেন, আবার রগড়ও কোর্চেন। বাঙালির কৌতূহল খুব নামকরা, যদি দ‍্যাকেন যে কেউ মিছিলের আওয়াজে মুক কুঁচকে কানে হাত চাপা দিলেন, অথোচো, মিছিল না যাওয়া পোর্যন্তো নোর্চেন না, বুজবেন- তিনি নিগ্ঘাৎ বাঙালি। বাঙালি বাড়িতে ওতিথি এলে এট্টা হুড়ুদ্দুম পোড়ে যায়, নিত্যকাজের সব জিনিস লুকিয়ে ফেলে, একদম সিরিয়ালবাড়ির মত টিপটপ। এজোন্যই হয়তো বাঙালির খাটের নিচে, গুপ্তোসমিতির মত, এট্টা গুপ্তোসংসার থাকে। এছাড়া বিখ্যাত বাঙালির পিয়েনপিসি, ওটি ছাড়া বাঙালির আড্ডা জমে না। আপিসে কে কেন সামান্য খুঁড়িয়ে হাটঁচে থেকে পাশের ফ্ল্যাটের ‘উনি’ কোথায়, কবে, কিভাবে, কাকে দেখা দিয়েচিলেন, তা নিয়ে তথ্যগর্ভ বিশ্লেষণে বাঙালির জুড়ি নেই।

বাঙালি আবার খুব সঙোস্কিতি সচেতন প্রাণী, এবং এ মামলায় যে তারা ‘শ্রেষ্ঠয়েস্ট’, সে ব্যাপারে তাদের কোন সন্দেহো নেই। সে জোন্য তারা পোকাশ্যেই ‘মাথামোটা বিহারী’, ‘অশিক্ষিত গুজ্জু’, আর ‘আনকালচার্ড মাওড়া’দের নিয়ে ঠাট্টা কোরে থাকেন। (অবোশ্য, বাঙালির সব ব্যাপারেই রগোড় করা ওভ্যেস, সে দুর্ভিক্ষ-মহামারী-দাঙ্গা-মোচ্ছব যাই হোক না কেন। এজন্য যেকোন হাঙ্গাম-ক্যাচালে তেড়ে খিল্লি কোরেই তারা হাত ধুয়ে ফ্যালেন।) বত্তোমানে, গ্লোবাল বাঙালি অবোশ্য সকোলকে একত্তে নন-বেঙ্গলি বলেন।গ্লোবাল বাঙালি বাঁটুল দি গ্রেট, নন্টে ফন্টে, ফেলুদাসাহিত্য এবং টিনটিন, পোভিতি বিদেশি সাহিত্য গভীর মনোযোগে চর্চা করেন। বর্ত্তমানে দেকা যায়, যে ফেলুদাচর্চা করে না, গ্লোবাল বাঙালিরা তাকে বাঙালি বলে মানতেই অস্বীকার করেন। বাঙ্গালীর ওতীত গৌরব পোসঙ্গে বাঙালির সম্মিলিত দিগ্ঘশ‍্বাসে এট্টা সাইক্লোন হবার জোগাড় হয়। বাঙালি নিজের ম্যাড়ম্যাড়ে বত্তোমানে গ্ল্যামারাস ওতিত জাবর কাটতে খুব ভালোবাসেন। সেজন্য গরম চায়ের দোকানের বেঞ্চি পোঙায় ঠেকলেই ‘সুভাষচন্দ্র’ থেকে ‘সত্তর দশক’ হুড়মুড়িয়ে এসে পড়ে। এ ব্যাপারেও অনেকে বউ বা বান্ধবীর কাচে নস্টালজিয়া পোকাশ কোরে থাকেন। অনেকেই আত্তীয়-সজোনের আড্ডায় বলেন, ‘তোষামোদি কোত্তে পার্লে অ্যাদ্দিনে প্রোমোসন্ আটকায় কে, তবে কি জানেন, সুভাষচন্দ্রের সজাৎ, তোষামোদিটা আমাদের ঠিক আসে না।’

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s